আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৯ এপ্রিল: শনিবার পলতা জোহর কলোনিতে এক বায়ু সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীর গলার নলি কাটা মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় মৃতা রঞ্জনা দেবীর স্বামী পেশায় বায়ুসেনা কর্মীকে গ্রেপ্তার করল নোয়াপাড়া থানার পুলিশ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিন ১৫ আগে এই জহর কলোনির বিজন ভট্টাচার্যের বাড়িতে ভাড়া আসেন অমর লাল ও তার পরিবার। তিনি বায়ুসেনাতে কর্মরত ছিলেন। সেই সূত্রে বদলি হয়ে পলতায় আসেন। অমর লাল তার স্ত্রী রঞ্জনা দেবী এবং তার ২ কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকতেন।এদিন বিকেলে মৃতার স্বামী তাদের দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে গেছিল আর সন্ধ্যায় বাড়ি এসে দেখে গলার নলি কাটা অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মৃত দেহ।

এরপর নোয়াপাড়া থানায় খবর গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে ও দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদান্তে পাঠায়। আর এই ঘটনায় গতকালই স্বামী অমর লালকে আটক করেছিল নোয়াপাড়া থানার পুলিশ। তাকে সারা রাত, দফায় দফায় জেরা করা হয়। সূত্রের খবর, পুলিশি জেরার মুখে তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি এই খুন করেছ।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী স্ত্রী মধ্যে অশান্তি চলত। এর আগেও তিনবার পারিবারিক বিবাদের জেরে বাড়িতে পুলিশ এসেছিল, জেরায় এমনটাই জানিয়েছে অমর লাল চৌধুরীর ৭ বছরের মেয়ে। অমর লাল চৌধুরী সন্দেহ করত স্ত্রী রঞ্জনা দেবীর ব্যক্তির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। কানপুরে থাকা কালীন স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল অমর লাল। পুলিশি জেরায় অমর লাল জানায়, যে গতকাল দুপুর তিনটের সময় কাজ থেকে বাড়ি ফেরে অমর লাল। এরপরে স্ত্রী রঞ্জনা দেবীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থাতেই প্রথমে স্ত্রীর নাকে পেপার ওয়েট দিয়ে আঘাত করে, এরপর ছুরি দিয়ে তার গলার নলি কেটে খুন করে।
এদিন মৃতার ভাই বলেন, “প্রথমে আমার বোন আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়। এরপর বায়ু সেনা থেকে ফোনে বলা হয় যে অমর লাল তার স্ত্রী অর্থাৎ আমার বোনের গলা কেটে খুন করেছে। আর সে নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে।” তবে ভর সন্ধ্যা বেলা ঘটা এই খুনের ঘটনায় বর্তমানে থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে পলতার জহর কলোনীতে।

