আমাদের ভারত, ১৫ জানুয়ারি: আইপ্যাক কান্ডে ইডির বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত নয়, এবং এফআইআর- এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই নির্দেশ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, এখনো আরো বাকি আছে। মামলা সুপ্রিম কোর্টে শুরু হোক। তাঁর কথায়, ইডির কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী সহ সব আধিকারিকের সাজা হওয়া দরকার।
সুকান্ত মজুমদারের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ৪-৫ জন আইপিএস, আইএএস যা অপরাধ করেছেন সুপ্রিম কোর্টে সাজা না হলে আইন ব্যবস্থার উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে সাধারণ মানুষের।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল নিজের ট্র্যাক রেকর্ড ধরে রেখেছে। যখনই কোর্টে যাচ্ছে নন্দলাল হয়ে ফেরত আসছে দুই গালে থাপ্পড় খেয়ে। এটা নতুন কিছু নয়। আরো বাকি আছে, অপেক্ষা করুন মামলাটা সুপ্রিম কোর্টে উঠুক। তিনি বলেন, আইনি বিশেষজ্ঞ না হলেও, আমি আইন যতটুকু বুঝি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চার- পাঁচ জন আইপিএস ও
আইএএস যে অপরাধ করেছে, সেই অপরাধের সাজা না হলে ভারতবর্ষের বিচার ব্যবস্থার উপরে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে।
তিনি এই অপরাধের জন্য ডিজির প্রাপ্য সরকারি সুযোগ সুবিধা বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, সেদিন রাজীব কুমারের যে ভূমিকা ছিল, তা আইন মোতাবেক ছিল না। তার জন্য তার পেনশন আটকে যাওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিত আইন মোতাবেক তার পেনশন এবং রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট সমস্ত আটকে দেওয়া।
আইপ্যাক কান্ডে ইডির তল্লাশি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী ইডি আধিকারিকদের ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন বলে কোর্টে অভিযোগ করেছে ইডি। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূলের এত খারাপ অবস্থা হয়েছে শেষে মোবাইল পর্যন্ত চুরি করতে হচ্ছে।
তাঁর দাবি, সেদিন ইডির তল্লাশিতে বাধা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা করেছেন সেটা কার্যত ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ওনার ইচ্ছে হলে উনি বাংলাদেশে চলে যান আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমরা বাংলাদেশ হতে দেবো না, আমরা বাংলাদেশে যাব না। ভারতবর্ষের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বিজেপি সর্বদা এগিয়ে থাকবে।
প্রসঙ্গত, ইডি-র বিরুদ্ধে দায়ের করার সমস্ত এফআইআর- এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে ইডির দাবি বৈধতা পেয়েছে শীর্ষ আদালতে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। ইডি দাবি করেছিল নিয়ম মেনে তারা তদন্ত করতে গিয়ে হেনস্তার মুখে পড়ে। তথ্য নষ্ট করতে এই কান্ড ঘটানো হয়। ইডির দাবি, তাদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তাই সেগুলির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। তাদের আর্জি মেনে এফআইআর- এ স্থগিতাদেশ জারি করল শীর্ষ আদালত।

