২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে ড্রোন-হাব তৈরীর লক্ষ্য, কৃষি-ড্রোনের বিষয়ে কৃষকদের ওপর “মন কী বাত” অনুষ্ঠানের প্রভাব

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ এপ্রিলঃ- ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ড্রোন-হাব তৈরীর লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার। কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যাবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠানে সেই প্রসঙ্গই উঠে এসেছে। 

রবিবার ছিল প্রধানমন্ত্রীর ১০০ তম মন কি বাত অনুষ্ঠান। সারা দেশের সঙ্গে বুদবুদে কেন্দ্রীয় কৃষি বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রেও সম্প্রচারিত হয় মন কি বাত অনুষ্ঠান। এদিনও প্রধানমন্ত্রী জল সংরক্ষণ ও কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ জনসংখ্যার জীবিকার প্রধান উৎস কৃষিকাজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর “মন কী বাত” অনুষ্ঠানে ভারতীয় কৃষকদের এবং অন্যান্য কৃষিক্ষেত্রে নিত্য নতুন উদ্ভাবনের জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। এখনও পর্যন্ত সম্প্রচারিত “মন কী বাত” অনুষ্ঠানের ৭টি পর্বে কৃষিক্ষেত্র এবং কৃষকদের সার্বিক কল্যাণের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি কৃষিক্ষেত্রে ড্রোনের ভূমিকা তুলে ধরেছেন এবং কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তি হিমাচলের সুস্বাদু কিন্নৌরি আপেলকে, কৃষকদের অপচয় ও ব্যয় কমিয়ে, আরও দ্রুত ও সময়মতো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করছে, সে বিষয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন।

২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ড্রোন-হাব করার উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার। তারজন্য কৃষিক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যাবহারে জোর ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা অনুপ্রেরিত হয়ে, কৃষি-ড্রোনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে কৃষকদের সামগ্রিক উপলব্ধি, মনোভাব আকর্ষিত করেছেন। এবং মূল্যায়নের জন্য, ICAR- এর বিজ্ঞানীরা, “মন কী বাত” অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালিত করেছেন। তার জন্য দেশের নির্বাচিত ২৯ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত ৭৭টি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (KVKS) তত্ত্বাবধানে, “মন কী বাত” কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ১৩৯৮ জন কৃষকের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, অধিকাংশ কৃষক ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা বুঝতে পেরেছেন ড্রোন কৃষিকাজের জন্য দরকারি। এবং তাদের কৃষি-ড্রোনের প্রতি অনুকূল মনোভাবও ছিল। যদিও, কিছু কৃষক এই প্রযুক্তিটি কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও, কৃষকদের একটি উল্লেখযোগ্য অনুপাত, সুযোগ দেওয়া হলে তাদের খামারের জন্য ‘এগ্রি-ড্রোন’ গ্রহণ করার প্রতি ২৫ শতাংশেরও কম আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তারজন্য, নীতি নির্ধারক এবং গবেষকরা ড্রোন প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ও বোধগম্য করে তুলতে, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সচেতনতা, প্রশিক্ষণ এবং হাতেকলমে প্রদর্শন আয়োজন করার বিষয়ে বিবেচনার চিন্তাভাবনা করছেন। এছাড়াও নীতি নির্ধারক এবং গবেষকরা তাদের পরিকল্পনা এবং কর্মসূচিতে এমনভাবে সমন্বয় উপস্থাপন করতে পারেন, যাতে অধিকাংশ কৃষকরা কৃষি ড্রোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে মাঝারি স্তর থেকে জ্ঞানের উচ্চ স্তরে যেতে পারে।

এছাড়াও কৃষি-ড্রোন গ্রহণের জন্য ভারতীয় কৃষকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সচেতনতা কর্মসূচিতে আশু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থান, নীতি এবং অর্থনীতির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের একটি ড্রোন-হাবে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি পরিপূর্ণতার জন্য কৃষকদের সক্রিয় করতে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে বলে মনে করেন ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *