জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২০ জুলাই: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফর্ম ফিলাপের টাকা ফেরত, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফি মকুব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল গুলোতে অফলাইন পঠন-পাঠন চালুর দাবিতে জেলা পরিদর্শকের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও।
সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বিগত দু’বছর ধরে করোনার প্রভাবে সারাদেশের ছাত্রসমাজের শিক্ষার ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার পথে৷ লক্ষ লক্ষ পরিবার তাদের জীবন জীবিকা হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে৷ ছাত্রসমাজও তার বাইরে নয়৷ তাদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নের সম্মুখীন৷

আবার অপরদিকে সরকারি শিক্ষানীতি ও পরিবর্তিত এই বিরুদ্ধ পরিবেশে সরকারি নানান অগণতান্ত্রিক, বিজ্ঞান বিরোধী সিদ্ধান্ত ছাত্র সমাজকে বিভ্রান্ত করছে৷ তাদের স্বাভাবিক মননশীলতার চূড়ান্ত ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে৷ অতি সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে সরকারি যে সিদ্ধান্ত তাতে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে৷ ছাত্র সংগঠনটির দাবি, স্কুলগুলোতে অফলাইন পঠন পাঠন বন্ধ থাকার কারণে বৃহৎ অংশের ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা আগামী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ বিষয়ে সময় নিয়ে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক ও অতিমারী বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে যে গণতান্ত্রিক উপায় অবলম্বন করার দরকার ছিল তার তোয়াক্কা না করে সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা করি৷ এই দুঃসময়ে চরম আর্থিক দুর্দশাগ্রস্থ পরিবারের ছাত্র ছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শত শত টাকা পরীক্ষা ফি বাবদ দিতে বাধ্য হয়েছিল৷
আবার বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের যে পরিকল্পনা বিগত বছরগুলোর মতো করা হচ্ছে, আমরা মনে করি তা অত্যন্ত অমানবিক৷ এই শিক্ষাস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত বহু পরিবারের সন্তানের শিক্ষার ভবিষ্যৎ কেড়ে নেবে৷

এই বাস্তব পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবিগুলির ভিত্তিতে জেলা স্কুল পরিদর্শকের নিকট ডেপুটেশন দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে জেলার প্রায় শতাধিক ছাত্র ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখার পর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ছাত্র ছাত্রীদের সাথে দেখা করেন। নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক ব্রতীন দাস। উপস্থিত ছিলেন জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুজিত জানা, টুম্পা গোস্বামী, ভাস্কর পাতর, সায়ন্তন ওঝা রবীন্দ্রনাথ মাইতি প্রমুখ।
জেলা পরিদর্শক ছাত্রসংগঠনের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে বলেছেন, জেলার যে সমস্ত স্কুলগুলো অতিরিক্ত ভর্তি ফি নিচ্ছে তাদের সঙ্গে শিক্ষক সংগঠনগুলোকে নিয়ে এবং আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আগামী ২৬ জুলাই আলোচনায় বসবেন।যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে ফি দিতে পারবেন না তারা স্কুলে আবেদন জানালে স্কুল তাদেরকে বিনা পয়সায় ভর্তি নিতে বাধ্য থাকবেন।
সংগঠনের জেলা সম্পাদক ব্রতীন দাস বলেন, “আন্দোলনের আংশিক জয় হয়েছে। আগামী ২৬ তারিখ আলোচনার ভিত্তিতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের যে দাবি ‘অবৈতনিক শিক্ষা’ তা আদায় না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পা বাড়াবো।

