আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২০ জুলাই:
সুন্দরবনে ভাঙ্গা বাঁধের অবস্থা দেখতে গিয়ে এবার বাধার মুখে পড়লেন বিজেপি নেত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।গত শুক্রবার কোটালের জলে প্লাবিত সাগরদ্বীপে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা।
বর্ষার মুখে ভাঙ্গা বাঁধের জন্য ওই তল্লাটের নানা স্থানে বাসিন্দারা আশঙ্কায় আছেন। বুধবার বঙ্কিমনগরে যান অগ্নিমিত্রা দেবী। এই প্রতিবেদককে তিনি ফোনে জানান, “আমরা যাওয়ার পর তৃণমূলের বেশ কিছু সমর্থক ‘ফিরে যাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। প্রতি বছর ওই অঞ্চলে বাঁধ ভাঙ্গে। স্থায়ী মেরামতের বদলে মাটি দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়। যাতে প্রতি বছর ভাঙ্গা বাঁধ সারাইয়ের নামে অর্থ বরাদ্দ হয়।”
সাগরের বঙ্কিমনগরে গিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মন্ত্রী বঙ্কিমবাবু। তাঁকে দেখেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাদের দাবি, বর্ষার আগে একাধিক বার বাঁধ মেরামতির জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল তৃণমূলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু কাজ হয়নি। যার ফলে আজ পথে বসতে হয়েছে গোটা গ্রামকে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, বহুবার অনুরোধ করলেও বাঁধ মেরামতির কাজে গুরুত্ব দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তার জেরেই মরশুমের প্রথম কোটালে ভেসে গিয়েছে ঘর-বাড়ি, চাষ-আবাদ। জবাবে বঙ্কিমবাবু বলেন, ‘যে ঠিকাদার সংস্থাকে কাজ দেওয়া হয়েছিল তারা ঠিক মতো কাজ করেনি।’
বুধবার অগ্নিমিত্রা পাল এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ফল-খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় অঞ্চল প্রধান, উপপ্রধানের নেতৃত্বে তৃণমূলের কর্মীরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাদের সামনে পুলিশ অসহায়ের মত দাঁড়িয়েছিল। কারণ, গত ১১ বছর ধরে কাজ না করে ওদের কাজের অভ্যাসটাই চলে গিয়েছে। যে কারণে এত পুলিশের চোখ এড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিয়ে করবে বলে কেউ তাঁর বাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে। যাই হোক, ওই আগন্তুক বাংলাদেশ থেকে এসেছে কিনা, পুলিশ তদন্ত করছে।
ওরা নিজেরা বাঁধও তৈরি করবে না। মানুষকে কষ্ট দেবে। আবার সরকারি রাস্তা দিয়ে বিজেপি প্রতিনিধিরা বাঁধের অবস্থা দেখতে গিয়ে বাধা পাবেন। মানে বাঁধ সারাইয়ের টাকা ওরা খাবে, সেটা অন্য কেউ বুঝুক, তা চায় না। এই তো রাজ্যের অবস্থা। যাই হোক, আমরা ভিতরে শেষ পর্যন্ত গিয়ে দেখলাম। এখন জল অনেকটা নেমেছে। কিন্তু প্রসঙ্গটা আমি বিধানসভায় তুলব। জানতে চাইব মন্ত্রীর কাছে। কেন্দ্রকেও জানাব। জনগণের টাকা চুরি করবে নেতা কর্মীরা, এটা হতে পারে না।“
এই ঘটনায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে রাজ্যে বাঁধ মেরামতির কোনও কাজ হয় না। কারণ সরকারের পয়সা নেই। আর যে কটা কাজ হয় তার টেন্ডার বিলি কী ভাবে হয় তার নমুনা সাগর পঞ্চায়েত থেকে ফাঁস হওয়া নথি থেকে আমরা জানতে পেরেছি।

