আমাদের ভারত, কলকাতা, ২০ জুলাই: গত বিধানসভা নির্বাচন ও তার আগে পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের নানা মন্তব্য আলোড়ন ফেলেছিল। দলের দিল্লির নেতৃত্বকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল তাতে। ফের তথাগতবাবুর মন্তব্য দলে অস্বস্তি তৈরি করেছে। পোস্ট করার এক দিন বাদে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টায় এই পোস্টে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২১৫, ৬৬ ও ৭।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাবিহীন একজন লোক হঠাৎ দলে এসে ভেলকি করে আঠারোটা আসন পাইয়ে দিলেন, একথা যারা বিশ্বাস করেন তারা ঘোড়ার ডিম বা পক্ষীরাজ ঘোড়াতেও বিশ্বাস করতে পারেন। ইনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্বন্ধেও এফিডেভিট করে মিথ্যা কথা বলেছিলেন। এঁর পিছনে বেশি কথা খরচ করে লাভ নেই।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম সমস্যা, কোনো চিন্তা, ভাবনা, পরিকল্পনা ছাড়া কাজে নেমে পড়া। ২০২১ সালের শোচনীয় ফলের অন্যতম কারণ, এই ভাবে গাদা গাদা হিন্দিভাষী নেতাদের রাজ্যে এনে তাদের দিয়ে হিন্দিতে বক্তৃতা করানো, যেখানে মমতা বলে যাচ্ছেন তিনি ‘বাংলার মেয়ে’। কোনো স্লোগান পর্যন্ত তৈরী হয়নি, কোনো স্বপ্ন মানুষের সামনে রাখা হয়নি – শুধু দুটো অর্থহীন স্লোগান ছাড়া, “সোনার বাংলা” এবং “আর নয় অন্যায়”। এ ছাড়া কামিনী-কাঞ্চন তো ছিলই। এর সঙ্গে তুলনীয়, ২০১৪ সালে মোদীজির ‘চায় পে চর্চা’-র মতো বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনাপ্রসূত পদক্ষেপ। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো মহৎ কার্য সম্পন্ন হতে পারে না। পরিকল্পনা করতে হয় ঠান্ডা মাথায়, ঠান্ডা ঘরে বসে। শুধু মেঠো রাজনীতিতে যাঁদের বিশ্বাস তাঁরা সবসময়েই এই ‘ঠান্ডা ঘরের’ ব্যাপারটা নিয়ে ঠেস দিতে ছাড়েন না। তা দিন। কিন্তু ‘বহু কিলোমিটার’ ঘুরে গাঁয়ে গাঁয়ে যা-ইচ্ছে-তাই ভাট বকে এলে তা মানুষের মনে কোনও দাগ কাটবে না – কর্মীদের একটু উৎসাহিত করা যেতে পারে এইমাত্র, তাও সাময়িকভাবে। সাধারণ মানুষ বোকা নন। তাঁরা নেতাদের বক্তৃতার মধ্যে আগামী দিনের পথনির্দেশ খোঁজেন। যদি তা না থাকে এবং সেই বক্তৃতা যদি হিন্দি হবার ফলে মানুষের কাছে সহজবোধ্য না হয় তাহলে কী হবে বোঝাই যায়|“

