ফের সাতসকালে রবীন্দ্র সরোবরে উল্টোলো নৌকো

আমাদের ভারত, কলকাতা, ৫ নভেম্বর: শনিবার সকালে রবীন্দ্র সরোবরে একটি নৌকো উল্টে যায়। নৌকোর ‘রোয়ার’-কে চটজলদি উদ্ধার করা গেলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রযুক্তি-পরিবেশবিদ, স্থানীয় বাসিন্দা সৌমেন্দ্র মোহন ঘোষ বলেন, “এক প্রবীন রোয়ার রোইং করছিলেন। কোনও ঝড় ওঠেনি, ঢেউ ছিল না। তাও শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ তাঁর নৌকোটি উল্টে গেল। গাড়ির মত বোটেরও ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকা উচিত। আমরা বারবার এব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছি। কেএমডিএ-র উচিত তদারকি করা। সামনেই একটা উদ্ধারকারী নৌকো ছিল। এই নৌকোয় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কোনও লাইফ জ্যাকেট ছিল না। তবে সঙ্গে সঙ্গে উল্টে যাওয়া নৌকোর রোয়ারকে তুলে নেওয়া সম্ভব হয়। তাঁর ভারি শরীর এবং সাঁতারে অপটু হওয়ায় তুলতে সমস্যা হয়। উদ্ধারকারী নৌকোয় চার জন থাকলে ভালো হয়। কিন্তু এদিন ছিলেন দুজন।“

গত ২১ মে এই সরোবরেই দুই মায়ের কোল খালি করে দুই ছাত্র পাড়ি দিয়েছিল না ফেরার দেশে। ভয়ঙ্কর কালবৈশাখী প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল দুই রোয়িং শিক্ষার্থীর। নৌকা উল্টে রবীন্দ্র সরোবরের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল দুই বন্ধুর। বিষয়টি নিয়ে তুমুল হইচই হয়। পাঁচ মাস বন্ধ থাকে রোইং।

আবার রবীন্দ্র সরোবরে চালু হয়েছে রোয়িং। রোইং ক্লাব কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছেন, রোয়ারদের নিরাপত্তায় এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। ক্লাব চত্বরে লাগানো হয়েছে লাল এবং সবুজ আলো। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই আলো প্রতীকি চিহ্ন হিসেবে কাজ করবে। ঝড়–বৃষ্টি কিংবা বজ্রপাতের পূর্বাভাস থাকলে জ্বলে উঠবে লাল আলো। সেদিন রোয়ারদের জলে নামার অনুমতি দেবে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে শনিবারের বোটটি কীভাবে উল্টে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *