সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি: বাঁকুড়া জেলার ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে শুরু হলো বিকেলের বর্হিঃবিভাগ চিকিৎসা পরিষেবা। জেলার মধ্যে প্রথম ছাতনায় চালু হলো এই বিকেলের আউটডোর বা ‘ইভিনিং ওপিডি’ পরিষেবা।
ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে যে, স্বাস্থ্য দফতরের সিদ্ধান্ত অনুসারে সোম থেকে শনি প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। শিশু বিভাগের আউটডোর চালুর মাধ্যমে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের আউটডোর পরিষেবাও পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে।
হাসপাতাল সুপার ডাঃ বুদ্ধদেব মুর্মু জানান, সকালের দিকে কাজের চাপে অনেক শ্রমিক, দিনমজুর ও চাষি হাসপাতালে আসতে পারেন না। তাদের সুবিধার কথা ভেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকেই রোগীদের উপস্থিতি বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
ছাতনায় সবজি বিক্রেতা অমল দত্ত, কৌস্তব চ্যাটার্জি, নন্দ দুলাল আঠা বলেন, ছাতনা কৃষিনির্ভর এলাকা। সকালের দিকে চাষের কাজে ব্যাস্ত থাকে বহু মানুষ। তাই এই বিকেলের পরিষেবা চালু হওয়ায় এই উদ্যোগ কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন। অপরদিকে স্থানীয় বেশ কিছু অধিবাসী মনে করেন, বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, তাই এই চমক দেওয়া উদ্যোগ। সকালের পরিষেবাতেই ঠিকমতো চিকিৎসা মেলে না চিকিৎসকরা গুরুত্ব দেন না। যদি সেটা হতো তবে সাপের কামড়ে যুবকটিকে অল্প বয়সে মরতে হোত না। চিকিৎসকদের অবহেলায় এই হাসপাতালে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী আশা কর্মীদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে প্রচার চালিয়ে এই পরিষেবার বিষয়ে সচেতন করা হবে। একসময় ব্লকে সমাজ কল্যাণমূলক কর্মসূচি প্রচারের জন্য বেশ কিছু ঢাকি নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই আশা কর্মীদের ওপর এই প্রচার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।

