সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২ আগস্ট: পঞ্চায়েত ভোটের পরপর পুকুর, ডোবা সহ নর্দমা থেকে মিলেছিল ব্যালট বক্স সহ ব্যালট পেপার। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনায় গোপালনগর থানার সুন্দরপুর এলাকার পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ভোটার কার্ড। এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
এদিন সকালে পুকুরের মালিক নজরুল মণ্ডল মাছ ধরবেন বলে পুকুরে জাল ফেলেন। তখনই তাঁর জালে একটি ভোটার কার্ডের বান্ডিল ওঠে৷ খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়৷ ওই বান্ডিলটির মধ্যে ১৮টি ভোটার কার্ড ছিল। যার মধ্যে স্থানীয় এবং বিভিন্ন এলাকার মানুষের পরিচয়পত্র রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন৷
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটার কার্ডগুলি শাসক দলের লোকজন নিজেদের কাজে ব্যবহার করে পরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে৷ বিরোধীদের অভিযোগ, যেভাবে এবার ভোট হয়েছে, ব্যালট পেপার ফেলে দেওয়া হয়েছে, ব্যালট বাক্স ও জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে, শাসক দলের লোকেরা তেমনই কোনও কাজে ব্যবহার করার জন্য এই ভোটার কার্ডগুলি এনে পরে তা ফেলে দিয়েছে৷ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুকুর পাড়ে এসে দলে দলে ভিড় করেন গ্রামের মানুষ। ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলি গোপালনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, তৃণমূলের যে চরিত্র সেটা আমরা বাংলার মানুষ বার বার দেখতে পেয়েছি। এবার পঞ্চায়েত ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকে শুরু হয়েছে ভোট প্রবর্তিতে নমিনেশন জমা দেওয়া নিয়ে বিরোধীদের উপর আক্রমণ, জ্বাল ব্যালট, গণনা কেন্দ্রে রাহাজানি, ভোটার কার্ড নিয়ে কারচুপি এই সব করে সরকারে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। তৃণমূলের এই চোর গুলো পঞ্চায়েতের টাকা খাওয়ার লোভ লালোসা থেকে বেরতে পারছে না তাই এই সব করছে। এর সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনও জড়িত আছে। মানুষ বুঝে গিয়েছে আগামী ২৪ এই সরকার ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।
তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এক সময় একটা চক্র ছিল যারা টাকার বিনিময়ে এই ভোটার কার্ড নকল করত। পুলিশের তৎপরতায় আমরা সেটা কমাতে পেরেছি। তারাই কেউ বাইরে ছাড়তে না পেরে পুকুরে সেগুলি ফেলে দিয়েছে। সেটা পুলিশি তদন্ত সাপেক্ষ। বিজেপিকে মানুষ বাতিল করেছে। পঞ্চায়েত ভোটে এরা নিজেদের এলাকার ভোটে হেরেছে। এদের লজ্জা ঘেন্না নেই। এদের নেতাদের কাছে মুখ রক্ষা করছে। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এই সব বলে তৃণমূলের নামে দোষ চাপাচ্ছে।

