প্রশাসনিক বৈঠকের পরই ব্যারাকপুরে জমা জল ও খারাপ রাস্তা ঠিক করতে তৎপর পূর্ত দপ্তর, হাইওয়ে অথরিটি ও পৌরসভা

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৮ নভেম্বর: জল জমা এবং রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা ব্যারাকপুরবাসীর কাছে নতুন নয়। বারাকপুরবাসীর বহুদিনের অভিযোগ ছিল বেশকিছু ওয়ার্ড বর্ষার অল্প জলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গতকাল মধ্যমগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন অল্প বৃষ্টিতেই ব্যারাকপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে যায়। তার কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছিলেন কল্যাণী এক্সপ্রেসের ধারে যে নিকাশি ব্যবস্থা রয়েছে সেটি বন্ধ হয়ে গেছে সেটি সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে পৌরসভার এলাকা আরও বেশী জলমগ্ন হয়ে পড়বে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন পূর্ত দপ্তরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রশাসনিক স্তরে জল জমার কারণ খতিয়ে দেখতে রাস্তায় নামলেন, হাইওয়ে অথরিটি, পূর্ত দপ্তর, এসডিও ও পৌর কর্তৃপক্ষ। এদিন আধিকারিকরা কিভাবে জল নিকাশি ব্যবস্থাকে উন্নত করা যায় তা খতিয়ে দেখেন। খতিয়ে দেখার পর দ্রুত এই বিষয়ে কাজ শুরু হবে বলে জানান আধিকারিকরা।

অপর দিকে ব্যারাকপুর লালকুটি এলাকাতেও এদিন ঘোষপাড়া রোড পরিদর্শনে আসেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এক প্রতিনিধিদল। দীর্ঘদিন ধরে ঘোষপাড়া রোড বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে ইছাপুর পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা ছিল সেই রাস্তা ঠিক করার জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও সেই কাজ সম্পন্ন না হওয়াতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রাস্তা দিয়ে চলা যাত্রীদের। জল জমার কথা জানানোর পাশাপাশি এই কথাও বুধবার আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তুলে ধরেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী এবং ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক উত্তম দাস। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন ঘোষপাড়া রোড পরিদর্শন করে কাজ শুরু করতে সেইমতো বৃহস্পতিবার দুপুর বেলায় পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক উত্তম দাস। সাথে ছিলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর প্রতিনিধি ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম নগরপাল ট্রাফিক, টিটাগর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। এদিন প্রায় ১ ঘন্টা ঘোষপাড়া রোড পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সাব ডিভিশানাল পিডাব্লিউডি ও ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক উত্তম দাস জানান, দ্রুততার সাথে এই রাস্তা সংস্কার করা হবে সেই কারণে তারা পরিদর্শন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *