২ মে’র পর তৃণমূল ভবনের সামনে কান ধরে লাইন দেবেন দলবদুলেরা: কাঞ্চন মল্লিক

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৪ মার্চ: তারকা প্রার্থী হয়েও শুনতে হচ্ছে বহিরাগত তকমা। কিন্তু তারা যে বহিরাগত নয় তা প্রমাণ করতে লড়াইয়ের ময়দানে কাঞ্চন মল্লিক। উত্তরপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক প্রবীর ঘোষালকে বিঁধলেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক। শুধু প্রবীর ঘোষালকেই নয়, ভোটের মুখে যাঁরা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে ‘স্বার্থচরিতার্থ’ করার জন্য সরে গিয়েছেন, তোপ দাগলেন তাঁদের উদ্দেশেও।

স্পষ্ট বললেন, “২ মের পর তৃণমূল ভবনের সামনে কান ধরে লাইন দেবেন তাঁরাই, যাঁরা বিপদের দিনে দিদির হাত ছেড়ে চলে গিয়েছেন।” কাঞ্চনের মন্তব্য, “আমি সুখের সময়ে এসে দাঁড়াইনি, আমি লড়াইয়ের সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি। কাজেই আমাকে বহিরাগত বলে যাঁরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে, আমি এলাকার জন্য কী কাজ করতে পারব, তাঁদের উদ্দেশে একটাই কথা বলব, আমি বাইরে রোগা, ভিতরে দারোগা।”

উত্তরপাড়ার বিভিন্ন প্রচারে নিজের বহিরাগত তকমা মুছে ফেলতে তৎপর কাঞ্চন মল্লিক। তিনি বলেন, “যেদিন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করেছেন, সেদিন থেকেই প্রকাশ্যে হোক কিংবা কানাঘুষো, আমার নামের পাশে ‘বহিরাগত’ শব্দটা খুব বেশি করে শুনতে পাচ্ছি। বলার আগে একটু ভাল করে ভেবে দেখুন, এই এলাকার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, তাঁর আদিবাস বাঁকুড়ায়। তাঁর নেতৃত্বে আজ হুগলি জেলা শান্তিতে ঘুমোয়। উনি কি বহিরাগত? যাঁরা এখানকার স্থানীয় হয়েও রাজনৈতিক দল-বদলেছেন, সেসব সুখের পাখিরা উড়ে গিয়েছে।”

বিজেপিকে বিঁধতেও ছাড়েননি কাঞ্চন। বললেন,
“আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন মাথা উঁচু করে বাঁচতে জানেন, আবার মাথা নিচু করে শিখতেও জানেন। কাজেই বিপদটা তাঁদেরই যাঁরা শুধু মাথা উঁচু করে বাঁচতে জানেন। মে মাসের ২ তারিখের পর মিলিয়ে নেবেন, তৃণমূল ভবনে আবারও ভিড় হবে। আবারও যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁরা কান ধরে ফিরে আসতে চাইবেন দলে। সেইদিন আমরা প্রতিবাদ জানাব, যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁরা আর নয়!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *