আমাদের ভারত, ৫ আগস্ট: কর্ণাটকের পর এবার ত্রিপুরাতেও হিজাব বিতর্ক শুরু। ইসলাম ধর্মাবলম্বী কয়েকজন ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে ঢুকতে যাচ্ছিল,
সেই খবর পেয়েই বিক্ষোভ দেখিয়ে তাদের স্কুলে ঢোকার আগেই আটকে দেয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। এর প্রতিবাদ করতে গেলে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ত্রিপুরার সেপাহীজালা জেলার বিলাসগড় সাব ডিভিশন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। সূত্রের খবর, এক সপ্তাহ আগে ওই স্কুলের একদল প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী যারা নিজেদের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছিল, তারা মুসলিম ছাত্রীদের স্কুলের ভেতর হিজাব পরে আসা নিয়ে প্রতিবাদ করে। তাদের দাবি, হিজাব পরা সরকার নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্কুলে হিজাব পরে আসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছিল।
করাইমুড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রিয়তোষ নন্দী জানিয়েছেন, ওই প্রাক্তন পড়ুয়ারা বিশ্বহিন্দু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিল। তারা আরো জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা না থাকায় তিনি ছাত্রীদের মৌখিকভাবেই স্কুলে হিজাব পরে আসতে বারণ করেছিলেন।
কিন্তু তারপরেও শুক্রবার ছাত্রীরা হিজাব পরে স্কুলে এলে তাতে আপত্তি জানিয়ে তাদের স্কুলে ঢুকে বাধা দেয় সংগঠনের সদস্যরা। সেখানে দশম শ্রেণির এক পড়ুয়া সেই ঘটনার প্রতিবাদ করে। তখনই তাকে মারধর করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বেশ কিছু মানুষ পথ অবরোধ করেন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকায় হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। ফলে অশান্তি এড়াতে বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এলাকায় শান্তি ফেরানোর জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

