খেতে খেতে উঠে গিয়ে, গ্রামের মানুষের আব্দার রাখতে তাদের সাথে সেলফি তুলেছিল ঐন্দ্রিলা, শোকে মূহ‍্যমান কৃষ্ণপুর

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২০ নভেম্বর : সেলেব হওয়ার অনেক আগেই বীরভূমের রাঙামাটিকে ভালোবেসে ফেলেছিল অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই চলে গেল অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা। তবে তার বেঁচে থাকার লড়াই, অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে সবার জন্য।

দু’বার ক‍্যান্সার আক্রান্ত হয়েও, চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিল ঐন্দ্রিলা। প্রথমবার ২০১৫ সালে, তার অস্থিমজ্জায় ক‍্যান্সার ধরা পড়ে। তখন সে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। দ্বিতীয় বার ২০২১ সালে, ফুসফুসে টিউমার। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যেই চালিয়ে গেছেন অভিনয়ের কাজ। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, মৃত্যু নয়, মৃত‍্যুর আগের কাজ মানুষকে অমরত্ব দান করে।

ঐন্দ্রিলা ও নলহাটির কৃষ্ণপুরের কোথাও যেন একটা যোগসূত্র ছিল। বীরভূমের নলহাটি থানার শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুরে ছিল তাঁর মনের টান। রক্তের সম্পর্কের না হলেও, এক অর্থে এই গ্রাম ছিল তাঁর মামার বাড়ি। কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বিভাস চন্দ্র অধিকারী ও তাঁর ভাই সুপ্রকাশ অধিকারী ছিলেন ঐন্দ্রিলার দুই সম্পর্কিত মামা। ঐন্দ্রিলার বাবা উত্তম শর্মা নলহাটির লোহাপুরের কাছে মুর্শিদাবাদের পাঁচগ্রামে চিকিৎসা করতেন। সেই সুবাদে বিভাস অধিকারী পরিবারের সাথে তাঁদের এই যোগাযোগ। চারপাঁচ বার কৃষ্ণপুরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছেন ঐন্দ্রিলা ও তার বয়ফ্রেণ্ড সব‍্যসাচী। গত বছর কালীপুজোয় তাঁরা এসেছিলেন। ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে বামাখ‍্যাপা খ‍্যাত সব‍্যসাচী সংলাপ বলেন। ঐন্দ্রিলা তাঁর ক‍্যান্সার জয়ের কাহিনী শোনান। সেই রিয়েল জয়ের কাহিনী রিলের সংলাপকে ছাপিয়ে জয় করে নেয় মানুষের মন।

নিজের সারল‍্যে জয় করে নেন সবাইকে। সুপ্রকাশ অধিকারীর স্ত্রী বনলতা অধিকারীকে “মামণি” ডাকতেন ঐন্দ্রিলা। তিনি বলেন, আমাদের শাশুড়ি মা আরতী অধিকারীর হাতের রান্না খেতে খুব ভালো বাসতো ঐন্দ্রিলা। তাঁর হাতের মোচার ঘন্ট ছিল তাঁর খুব প্রিয়। আজও মনে হয়, এই তো সেদিন মেয়েটা ভাত, ডাল, মাছ, জিলিপি ও মিষ্টি খেল। জানেন, খেতে খেতে উঠে গিয়ে, গ্রামের মানুষের আব্দার রাখতে তাদের সাথে সেলফি তুললো, তারপর আবার খেতে বসলো। তাড়াতাড়ি চলে যাবে বলেই কি এভাবে আপন করে নিয়েছিল? এত সহজ ছিল? ভাবতে পারিনি এত সাত তাড়াতাড়ি চলে যাবে। ক‍্যান্সারকে জয় করে, আবার হারিয়ে যাবে ভাবিনি কেউ। আমার স্বামীতো ওখানেই আছেন। কৃষ্ণপুরের ক্লাবের এক সদস‍্য জানান, মঞ্চে উঠেও এক পয়সা কোনো দিন নেননি। আবার হয়তো অনুষ্ঠান হবে। তবে মনে হবে ঠিকই, এত আনন্দ আয়োজন, সবই বৃথা তাঁকে ছাড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *