ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সাফল্য! ২১মাস বন্ধ থাকার পর আজ খুলছে মুজনাই চা-বাগান

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১৫ সেপ্টেম্বর:
কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই প্রায় ২১মাস বন্ধ থাকার পর আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের বন্ধ একটি চা-বাগান খুলতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই দুর্গাপূজার মুখে মহালয়ার ঠিক আগে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের মুজনাই চা-বাগানে এখন খুশির হাওয়া।

প্রায় ২১ মাস থেকে বন্ধ বাগানটি নিয়ে সোমবার শিলিগুড়িতে রাজ্যের অতিরিক্ত লেবার কমিশনার মহম্মদ রিজওয়ান এর অফিসে ম্যারাথন বৈঠক চলে। শেষ পর্যন্ত বৈঠকে উপস্থিত ৫টি পৃথক ট্রেড ইউনিয়ন, চা-বাগান মালিকের যৌথ সিদ্ধান্তে পরিস্কার হয় বাগান খোলার রাস্তা। আজ মঙ্গলবার থেকেই মুজনাই চা-বাগানে পুরোপুরি কাজ শুরু হয়ে যাবে। কাজ ফিরে পাবে চা-বাগানের প্রায় ১০০০জন শ্রমিক। মহম্মদ রিজওয়ান জানান, “একটি চা বাগান খুলে যাচ্ছে। এর থেকে ভালো খবর আর কিছু হতে পারে না। কোভিড পরিস্থিতিতে এটাই শিলিগুড়িতে আমার মুজনাই নিয়ে প্রথম বৈঠক ছিল। দ্রুত আর কয়েকটি বন্ধ চা-বাগান খুলতে বৈঠক ডাকছি আমরা। আশাবাদী ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে সেই বৈঠক গুলি থেকেও।”

উল্লেখ্য, ১০০০ চা-শ্রমিকের মুজনাই চা-বাগানে ২০১৮ সালে পুজো বোনাস সহ আর বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যা হয় মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে। এরপরই বাগানে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ দেয় মালিকপক্ষ। গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চা শ্রমিকদের বকেয়া ২৫ দিনের বেতন দুটি ধাপে ৭ দিনের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, দুর্গাপূজার বোনাসও দেওয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন মালিকপক্ষ।
চা-বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি মোহন শর্মা মুজনাই চা-বাগানে গিয়ে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সমস্যাগুলি শোনেন। মোহন শর্মা জানান, “দুটো ক্যাশ জি.আর. শ্রমিকদের দেওয়া হবে সরকারি তরফে। কোভিড পরিস্থিতিতে অনেক খারাপ খবরের মধ্যেও খুবই ভালো ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ারে।”

বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনসমুহ বাগান খোলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের চা-শ্রমিক নেতা মান্নালাল জৈন বলেন, “মুজনাই চা-বাগানের শ্রমিকরা প্রমাণ করেছেন তারা বাগানকে কতটা ভালোবাসেন। কারন গত ২ বছরে বাগানের ফ্যাক্টরি থেকে একটা নাটবল্টুও চুরি হয়নি। যদিও মালিকরা বাগান বন্ধ করে দেওয়ায় সংকটে পড়েছিল ১০০০ পরিবার। আশা করব এবার স্বাভাবিক হয়ে চলবে বাগানটি।”

এদিকে বাগানের স্বাস্থ্য কর্মী নারু বিশ্বাস বলেন, “দুপুরে খবরটি পেয়েছি আমরা। সবাই স্বস্তি পেয়েছি। সামনেই দুর্গাপুজা তার আগে এর থেকে আনন্দের খবর হতে পারে না।”
বাগানের শ্রমিক কালি লোহার বলেন, “অনেকেই বাগান ফের খুলবে আশা ছেড়ে দিয়েছিল। আর যেন বাগান বন্ধ না হয় প্রার্থনা করবো। আজ বাগানের সবাই খুশি।” জানা গেছে, আলিপুরদুয়ার জেলার অপর বন্ধ তোর্সা চা-বাগান নিয়েও খুব দ্রুত ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে শ্রমদফতরের উদ্যোগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *