আমাদের ভারত, ২৯ মার্চ: আর জি কর- এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছে বঙ্গ রাজনীতি। ঘটনার প্রতিবাদে দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সরব হয়েছে আমজনতা। এর প্রায় এক যুগ আগে কামদুনিতে আরো নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সেই সময় প্রতিবাদের মুখ ছিল মৌসুমী কয়াল, টুম্পা কয়াল। এবার সেই টুম্পা কয়ালও যোগ দিলেন বিজেপিতে।
রবিবার সল্টলেকের বিজেপির দপ্তরে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের পতাকা তুলে নেন তিনি। আর জি কর- এর নির্যাতিতার মায়ের পর তাহলে কি এবার প্রার্থী হবেন তিনিও? টুম্পা কয়ালকে ঘিরে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন রাজনৈতিক মহলে।
বিজেপির দপ্তরে আরো দু’জনের সঙ্গে বিজেপির পতাকা তুলে নেন কামদুনির প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়াল। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পাশে বসে টুম্পা জানান, মৌসুমী কী করবেন সেটা তার নিজের বিষয়। তার পরিবারের সমর্থন আছে বলেই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কামদুনির ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় বিজেপি তাদের পাশে ছিল। হাইকোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সময় বিজেপি তাদের সঙ্গে ছিল। পরবর্তীকালেও বিজেপি তাদের সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।
মাত্র কয়েকদিন আগে মেয়ের বিচার পেতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর জি কর- এর নির্যাতিতার বাবা-মা। সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার মা জানিয়েছিলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাকে রাজনীতিতে আসতেই হবে। এ রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কেউ ভালো নেই। তৃণমূলের মূলটাকে উপড়ে ফেলার জন্য আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় আর জি কর- এর নির্যাতিতার মায়ের নাম দেখে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠতে থাকে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু এবার সেই একই পথে হাঁটলেন টুম্পা কয়ালও।
তাহলে টুম্পা কি বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হতে চলেছেন? বিজেপির তরফে এই বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। টুম্পাও এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তিনি ভোটের প্রার্থী হবেন।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। রবিবারের সভা থেকে বাড়ির মা-বোনেদের বুথ আগলানোর আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ১৫০০ টাকার বিনিময়ে এত কিছু চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। টাকা দিয়েছে তাই সবাইকে বেরিয়ে ভোট করাতে হবে। অর্থাৎ তিনি এতদিন বিনামূল্যে কিছু দেননি। তাঁর প্রশ্ন মহিলারা বাড়ির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাকরির কথা ভুলে গিয়ে বুথ পাহারা দেবে। তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লকেট বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার যারা নিয়েছে তারাই সরকারের বিরোধিতা করছে। এবার ভোটে পদ্মফুলেই তারা ভোট দেবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার পেলেও লক্ষ্মীর সম্মান আগে। টাকা তো বিজেপিও দেবে।

