ঐতিহাসিক মিশন! ৭০ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে চিতার আগমন দেশে

আমাদের ভারত, ১৭ সেপ্টেম্বর: মোদীর জন্মদিনে ভারতে এল ৮ চিতা। ৭০ বছর পর আবার ভারতে চিতা এলো। দেশে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ি চিতাকে ফের ফিরিয়ে আনার এই চেষ্টা অবশ্যই একটি ঐতিহাসিক মিশন।

এর আগে ভারতে এশিয়াটিক চিতার বাস ছিল। কিন্তু সেই ছবি বদলে যায় ১৯৫২ সালে, যখন দেশে চিতাকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। অবশেষে ৭০ বছর পর দেশে চিতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়। মোদীর জন্মদিনে আফ্রিকান চিতাকে ভারতে আনা হল। নাম্বিয়া থেকে ৮ চিতাকে আনা হয়েছে।

শনিবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনার চপারে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র আসে চিতাগুলি। এরপর এদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। তারপর তাদের মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে তাদের কোন ন্যাশনাল পার্কে নির্দিষ্ট এনক্লোজারে ছেড়ে দেন। এখন থেকে এখানেই থাকবে চিতা গুলি। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া পুরো বিষয়টি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বিষয়টি তদারকি করেছেন।

চিতাগুলিকে তাদের নতুন ঘরে ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ বহু দশক পর আমাদের দেশের মাটিতে চিতা আবার ফেরত এসেছে। আজ এই ঐতিহাসিক দিনে আমি সকল ভারতীয়কে শুভেচ্ছা জানাতে চাই, একইসঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে চাই নাম্বিয়ার সরকারকেও, তাদের সাহায্য ছাড়া এটা সম্ভবপর ছিল না। বহু দশক আগে জীব বৈচিত্রের অন্যতম সদস্য চিতা দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আজ আমাদের কাছে একটা সুযোগ এল ভারতে তাকে আবার ফিরিয়ে আনার।”

তবে এখনই চিতাকে দেখার সুযোগ সাধারণ মানুষ পাবে না। কুনো ন্যাশনাল পার্কের চিতা গুলিকে দেখার জন্য মানুষকে ধৈর্য ধরে আরো কিছু মাস অপেক্ষা করতে হবে। চিতাগুলি অতিথি হয়ে এসেছে। জায়গাটি ওদের অচেনা তাই এই নতুন জায়গায় নতুন করে চিতা গুলিকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কয়েক মাস সময় আমাদের দিতে হবে। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মেনে ভারত সর্বোত্তম চেষ্টা করবে চিতাগুলোকে নতুন জায়গায় ঠিক মতো রাখার। মোদী বলেছেন, “আমরা আমাদের চেষ্টাকে ব্যর্থ হতে দেব না।”

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহান বলেন, মোদীর জন্মদিনে মধ্যপ্রদেশের জন্য এ এক বড় উপহার। চিতা আসার ফলে কুনো পালনপুর অঞ্চলের পর্যটন আরো বাড়বে। নাম্বিয়া থেকে এভাবে আকাশপথে মধ্যপ্রদেশে চিতা নিয়ে আসার ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলেও আখ্যায়িত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *