জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২১ জুলাই: অবৈধ কয়লা পাচারে উত্তাল গোটা দেশ। কয়লা পাচারে রাঘব বোয়ালদের খুঁজতে তৎপরতা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় গয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও রাজ্য গয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। ইতিমধ্যে ইসিএলের একাধিক আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাছাড়াও আদালতে ৪১ জনের নামে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। অন্যদিকে অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের হদিশ পেতে ময়দানে নেমেছে সিআইডি।
এবার অবৈধ কয়লা খনির হদিশ পেতে খনি অঞ্চলে এরিয়াল সার্ভে শুরু করল রাজ্য গয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। বৃহস্পতিবার অন্ডালের হরিশপুর এলাকার অবৈধ কয়লা খনিতে ড্রোন উড়িয়ে তদন্ত শুরু করল সিআইডি। উপস্থিত ছিল ইসিএলের নিরাপত্তারক্ষী ও অন্ডাল থানার পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত ২০২০ সালে অবৈধ কয়লা খাদানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অন্ডাল থানার পুলিশ। যার কেস নং ৬৬/২০। ওই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। তদন্তে বেশ কয়েকজন অবৈধ কয়লা কারবারিকে গ্রেফতার করে। তাদের জেরা করে এদিন সিআইডি সরজমিনে তদন্ত শুরু করে। তার ভিত্তিতেই এদিন অন্ডালের কাজোড়ার হরিশপুরে আসে সিআইডি’র তদন্তকারী দল। যদিও ওইসব খাদান সম্প্রতি জলে ভর্তি। হরিশপুরের শিব মন্দিরের পিছনে তালডাঙ্গা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করে। দীর্ঘদিন ধরে ওইসব এলাকাগুলিতে মাটি কেটে অবৈধভাবে কয়লা তোলা হয় বলে অভিযোগ। সেখান থেকে ওই কয়লা বিভিন্ন জায়গায় ডিপোতে জমা হয়। পরে সুযোগ বুঝে লরিতে বোঝাই করে পাচার করা হয় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। জায়গাগুলি দুর্গম ও বিপদজনক হওয়ায় এদিন এরিয়াল সার্ভে করা হয়। সুরক্ষিত দূরত্বে দাঁড়িয়ে ড্রোনের সাহায্যে তারা অবৈধ খাদানগুলির ছবি সংগ্রহ করে। পরে ওই ছবি খতিয়ে দেখে জানা যাবে, কতগুলি অবৈধ খাদান রয়েছে এলাকায়। একই সঙ্গে কত পরিমাণ কয়লা ওই খাদানগুলি থেকে অবৈধভাবে তোলা হয়েছে তা নিরিক্ষন করা হবে বলে জানাগেছে। এদিন পরিদর্শনের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিআইডি অফিসারদের সঙ্গে ছিল ইসিএলের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও অন্ডাল থানার পুলিশ। তবে এদিনের অবৈধ খাদান পরিদর্শন ও তদন্তের বিষয়ে সিআইডি থেকে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

