বালুরঘাটে পিএইচই ভবনের আগুন নিয়ে আতঙ্কের ছাপ প্রশাসনিক আধিকারিকদের মুখে, পুরনো ভবনগুলি নিয়ে বিশেষ নির্দেশ জেলাশাসকের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৫ আগস্ট: জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরে বিধ্বংসী আগুনের জের, আতঙ্কের ছাপ প্রশাসনিক আধিকারিকদের চোখেমুখে। শুক্রবার বালুরঘাটে পিএইচই অফিসে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডের পর নড়েচড়ে বসলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। শনিবার জেলা প্রশাসনিক ভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জেলাজুড়ে সমস্ত পুরনো ভগ্নদশাপ্রাপ্ত সরকারি ভবনগুলি খতিয়ে দেখবার নির্দেশ দিলেন জেলাশাসক। একইসাথে
পিএইচই ভবনে সমস্ত কর্মীদের প্রবেশে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলাশাসক।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয় জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তর ভবনের একাংশ। ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে যায় ওই সরকারি অফিস ভবনের একাংশও। যে আগুন নেভাতে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা হয় দমকল কর্মীদের। সমস্ত ঘটনা চাক্ষুষ করে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়েছেন ওই দপ্তরে কর্মরত সরকারি কর্মীরা। আতঙ্কের ছায়া ফুটে উঠেছে সরকারি আধিকারিকদের চোখেমুখেও। শনিবার সকালে বালুরঘাটে অবস্থিত ওই পিএইচই অফিস চত্বর কার্যত লণ্ডভণ্ড অবস্থায় দেখাগেছে। অফিস সহ গোডাউনের একাংশ সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। ঝুলে রয়েছে ছাদ ও ছাদের উপরের শেড। দোতলার কয়েকটি ঘরে এখনো ঢুকতেই পারেনি দমকল বিভাগের কর্মীরা। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালিয়ে কিছু নথিপত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে কর্মীরা। কিন্তু দপ্তর সূত্রের খবর অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের কম্পিউটার বিভাগ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েগেছে। পুড়ে গেছে প্রায় ৩০টি কম্পিউটার। যার ফলে কম্পিউটারের ভিতরে থাকা সমস্ত ডাটাই প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন দপ্তরের সরকারি আধিকারিকরা। এদিন ভাঙ্গা সেই অফিস ভবনের নিচে গিয়ে লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার, এসি মেশিন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু আধপোড়া নথিও। যে খবর জানতে পেরেই এদিন দ্রুত অফিসে এসে পৌঁছান জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকার শুভব্রত কর। ঘুরে দেখেন ঘটনাস্থল৷ এদিকে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। আগামীতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সমস্ত পুরনো ভবনগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবার নির্দেশও দিয়েছেন জেলাশাসক।

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, এসির কিছুটা অংশ জ্বলে উঠবার ঘটনা থেকেই এই আগুনের সুত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই আগুন লাগার সঠিক রিপোর্ট এখনো দেয়নি দমকল দপ্তর। তবে ইতিমধ্যে সমস্ত সরকারি পুরনো ভবনগুলি যাচাই করে তার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দমকল বিভাগকে।

জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের আধিকারিক শুভব্রত কর বলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। বহু জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কম্পিউটারের যাবতীয় জিনিস পুড়ে যাওয়ায় সমস্ত নথি
হারিয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *