সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৬ ফেব্রুয়ারি: দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। সেদিকে নজর রেখে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন জোর দিয়েছে আবাস যোজনার কাজ শুরু করতে। অন্যদিকে জেলাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এই প্রকল্পের কাজে।
পাকাবাড়ি থাকলেও শাসক দলের নেতা কর্মী এবং পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের নাম আবাস তালিকায় থাকলেও প্রকৃত প্রাপক থেকে বিরোধী দলের সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া, ঘুস বা কাটমানি চাওয়া হচ্ছে, এমনকি একজনের টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে এরকম অভিযোগ জেলা জুড়ে। তার ওপর নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে জেলায়, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেই তা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলায় ১ লক্ষ বাড়ি নির্মাণ হবে। এই উপভোক্তাদের ৯৫ জনের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের মুখে এই উপভোক্তাদের মন পেতে এই প্রচেষ্টা বলে বিরোধী শিবিরের মন্তব্য। নির্বাচন ঘোষণা হয় গেলে প্রশাসনিক আধিকারিকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এতে আবাসের কাজ ব্যাহত হবে। তাই জোর দেওয়া হয়েছে আবাস নির্মানের কাজ শুরু করাতে।এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের দুই কিস্তিতে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
এদিকে আবাস যোজনা নিয়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাঁকুড়া। শুধুমাত্র শাসক দলের অনুগামী হলেই আবাস যোজনার টাকা পাওয়া যায় এই অভিযোগ সর্বত্র। বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান মৌসুমী ঠাকুরের নাম আবাস তালিকায় রয়েছে। তার একটি দোতলা বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। কাশীডাঙ্গার ১১জন উপভোক্তার নাম আবাস যোজনার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১২ হাজার টাকা করে ঘুস বা কাটমানি না দেওয়ায়।বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ব্লকের বালসী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পানপুকুর মাঝি পাড়ায় তৃণমূলের অঞ্চল সহ সভাপতি ও তার ভাই তৃণমূলের অঞ্চল কোর কমিটির সদস্য এই দুই ভাইয়ের নাম আবাস তালিকায় দেখা যায়, যা নিয়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ইন্দাসের আকুই-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে দুই উপভোক্তার টাকা এক ঠিকাদারের মা ও স্ত্রী-র অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তে শোরগোল শুরু হয় এলাকায়। ইন্দাসের বিডিও সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানকে শোকজ করেছেন। জেলার পাত্রসায়ের থানার বেলুট রসুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু বাগদী নামের এক আবাস উপভোক্তার কাছ থেকে ৫০০০ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরূদ্ধে। আবার জেলার জঙ্গলমহলের রাওতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়গড়ে সিং সর্দার পাড়ার কেউই সেই তালিকায় ঠাঁই পাননি। এই হতদরিদ্র পরিবারগুলি ছিটে বেড়ার দেওয়ালে ছেঁড়া ত্রিপল টাঙিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি মুহূর্তে বাড়ি চাপা পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ভগ্নপ্রায় কুঁড়ে ঘরে বসবাস করছেন। এই পাড়ায় বাস আদিম জনজাতি সিং সর্দার ও পিছিয়ে পড়া রায় পরিবারগুলির আবাস প্রকল্পে বাড়ির আবেদনও জানিয়েছেন তারা। অজানা কারণে রায়গড় গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারগুলির একজনের নামও ঠাঁই পায়নি আবাস প্রকল্পের তালিকায়। এনিয়ে সরব তারা।
বাঁকুড়া জেলা পরিষদ সভাধিপতি অনুসূয়া রায়ের কথায়, বিজেপি যতই বলুক শুধু তৃণমূল অনুগামীরা ঘর পাচ্ছে তা ঠিক নয়। কেন্দ্র তো একশো দিনের টাকা থেকে আবাসের টাকা সবই বন্ধ করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু করেছেন।
তবে সিপিএমের রানীবাঁধ এরিয়া কমিটির সম্পাদক লক্ষ্মীকান্ত টুডুর বক্তব্য, তৃণমূল বলছে জঙ্গলমহল হাসছে। কিন্তু ওদের চোখের জল তারা দেখতে পাননি। গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের দুর্দশা ঘোঁচেনি। বিজেপির বক্তব্য, আবাস যোজনা দুর্নীতিতে ভরিয়ে তুলেছে তারা।
উল্লেখ্য, শালতোড়া ব্লকের সালকা ও ঢেকিয়ায় আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা ১০ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরেই প্রতারকরা হাতিয়ে নেয়। পুলিশের অনুমান, আধার এনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেমে এই টাকা তোলা হয়েছে।

