সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৩ নভেম্বর: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে এবার আরও বিপাকে মেদিনীপুরের পিংলার বিধায়ক তথা রাজ্যের কারা প্রতিমন্ত্রী অখিল গিরি। তার এই মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছে আদিবাসী সমাজ। তিনি শুক্রবার তৃণমূলের এক জনসভায় রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে যে কুরুচি পূর্ণ মন্তব্য করেছেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে কুনাট্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা রাজনৈতিক তো বটেই মানবিকতার সীমাও লঙ্ঘন করেছেন বলে গোটা রাজ্য তোলপাড়। এনিয়ে অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
আজ সকালে আদিবাসী একতা মঞ্চের জেলা নেতৃত্বও তাদের সঙ্গে সংঘবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বাঁকুড়া- খাতড়া রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। অন্যদিকে সকাল ১০ টা থেকে অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের উদ্যোগে গঙ্গাজলঘাঁটিতে সিদাড়া মুক্তমঞ্চে একটি ধিক্কার সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের জেলা সভাপতি সুনীল কুমার মান্ডি, জেলা সম্পাদক মার্শাল টুডু, ব্লক সভাপতি হরিপদ হেমব্রম, ব্লক সম্পাদক মণিলাল টুডু, সুখদেব মুর্মু সহ অনেকে।

জেলা সম্পাদক মার্শাল টুডু বলেন, সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্ম্মু সম্পর্কে অখিল গিরি যে কু-কথা এবং শারীরিক ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। এর আগেও তিনি রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে কু-মন্তব্য করেছিলেন। একবার মুখ ফসকে অকথা কুকথা বেরিয়ে যেতেই পারে। কিন্তু বারবার তিনি যে ভাষা রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে ব্যবহার করছেন তা সমস্ত আদিবাসী মানুষকে অপমান করেছেন। দ্রৌপদী মুর্ম্মু কোনো দলের নন। তিনি দেশের ১ নম্বর নাগরিক। তাকে অপমান করা মানে সমগ্র ভারতবাসীর অপমান।
জেলা সভাপতি সুনীল কুমার মান্ডি বলেন, আমাদের দাবি, অখিল গিরিকে খরিজ ও মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এদিন তারা প্রতীকি ভাবে রাস্তা অবরোধ করেছেন। সোমবারও জেলার প্রতিটি ব্লকে রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি নিয়েছেন জেলা নেতৃত্ব।
মার্শাল টুডু বলেন, এরপর আমরা ৭ দিন অপেক্ষা করব। তার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে লাগাতার আন্দোলনে সামিল হবেন সারা দেশের আদিবাসী মানুষ।

