নিজ অধিকারের দাবিতে বাঁকুড়ায় সোচ্চার আদিবাসী বিকাশ মঞ্চ

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ ডিসেম্বর: আদিবাসীদের শিক্ষা সংস্কৃতি, জমি, কাজের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার আদিবাসী বিকাশ মঞ্চ। আজ বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা মোড়ে অনুষ্ঠিত এক নজরকাড়া আদিবাসী সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সারা বাংলা আদিবাসী অধিকার ও বিকাশ মঞ্চের প্রথম বাঁকুড়া জেলা সম্মেলন উপলক্ষে মাচানতলায় প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আঞ্জুমান ইসলামিয়া হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জেলার দশটি ব্লক থেকে দুই শতাধিক আদিবাসী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বাঁকুড়া জেলার সভাপতি সুধীর মুর্মু, রাজ্য আদিবাসী নেতা পাগান মর্মু, জেলা নেতা সহদেব টুডু, কবিতা মান্ডি প্রমুখ। সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সিমলাবাঁধ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ফটিক মুর্মু। আদিবাসী আন্দোলনের সমর্থনে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআই (এম এল) লিবারেশনের জেলা সম্পাদক বাবলু ব্যানার্জি, কেন্দ্রীয় নেতা কার্তিক পাল।

বিভিন্ন বক্তারা বলেন, সারা দেশে রাম মন্দিরের নামে এক ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই এই মন্দির উদ্বোধন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলছেন “রামের জন্য ঘর” নাকি তৈরি হয়েছে! কিন্তু আবাস যোজনায় দেশের সকল গৃহহীনদের জন্য “পাক্কা মোকানের” প্রতিশ্রুতি আজও এক নিষ্ঠুর রসিকতা হয়েই রয়ে গেলো। বিশেষতঃ এই রাজ্যে প্রায় ১০ লক্ষ আবাস যোজনা উপভোক্তার বরাদ্দ টাকা আটকে রাখা হয়েছে। ২০০৬ সালের বনাঞ্চল অধিকার আইনকে নস্যাৎ করে দিয়ে আদিবাসীদের চিরাচরিত বনের জমি ও বাস্তু জমির পাট্টা দেওয়া হয়নি, সীমিত সংখ্যকের হলেও তাঁদের জমির পরচা বা রেকর্ড হয়নি। ফলে কাগজ না থাকার কারণে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সমস্ত রকম সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। ভাগে বা চুক্তি প্রথায় আদিবাসীরা চাষাবাদ করে চলেছে, অথচ জমির মালিকরা চাষ না করেও ঘরে বসে দিব্যি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দু’বছর হতে চলল ১০০ দিনের কাজ এই রাজ্যে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে রাজ্য সরকারের দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু একজন দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারও শাস্তি হয়নি। এমন কি এ বিষয়ে প্রশাসনে কোনো অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করা হয়নি। যাদের শাস্তি পাওয়ার কথা তারা দিনের আলোয় ঘুরে বেড়াচ্ছে, বাস্তবে শাস্তি পাচ্ছে এই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আদিবাসী, তপশিলি, দরিদ্র, ভূমিহীন, শ্রমজীবী মানুষরা।

এই চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের একতা ও আন্দোলনই একমাত্র রাস্তা। এই অঙ্গীকার আজকের সমাবেশ থেকে সমস্ত বক্তা তুলে ধরেন। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি জানুয়ারি মাসে জেলার সমস্ত ব্লকে বিক্ষোভ ডেপুটেশন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে পথ অবরোধ, রেল অবরোধ প্রয়োজনে বনধের মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *