জোটে ফাটল! ব্রিগেড মঞ্চেই প্রকাশ্যে মতানৈক্য, সিদ্দিকি আসতেই ছন্দপতন অধীরের, শেষ হবার আগেই সভা ছাড়লেন কংগ্রেস সভাপতি

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২৮ ফেব্রুয়ারি: তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে লাল ব্রিগেডের ময়দান ভোল বদলে রঙিন হয়েছে। কিন্তু তাতেও কি শক্তিশালী জোট হলো? আব্বাস সিদ্দিকি মঞ্চে আসতেই অধীরের ছন্দপতন। কংগ্রেসের প্রতি সিদ্দিকির স্পষ্ট ভাগীদারির বার্তা। বাম ঐক্যের ইতিহাস বহনকারী সেই ব্রিগেডের মঞ্চেই এবার প্রকাশ্যে চলে এলো জোটের মতানৈক্য। ফলে প্রশ্ন উঠলো বিজেপি-তৃণ বিরোধী জোটের বার্তা দেওয়া ব্রিগেড সমাবেশ তা কি আদৌ কার্যকরি হলো? নাকি বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের এই ঘটনা আরও একটু দ্বিধাগ্রস্ত করে দিলো?

এদিন ব্রিগেডের সভা শেষ হবার আগেই চলে গেলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তার আগেই অবশ্য ব্রিগেড মঞ্চে কংগ্রেসকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের আব্বাস সিদ্দিকি। তাতে কিছুটা হলেও কংগ্রেসের প্রতি আক্রমণের সুর ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ঘটনাচক্রে আব্বাস সিদ্দিকি আসার আগেই বক্তব্য রাখতে উঠে একরকম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। অধির বলেছিলেন এত বড় সভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ আমার জীবনে এই প্রথম। কিন্তু তার পরেই ছন্দপতন। কোনোক্রমে নিজের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে শেষ করে সভা শেষের আগেই তার দ্রুত চলে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিন ব্রিগেডে অধীর চৌধুরী যখন বক্তব্য রাখছিলেন তার মাঝেই সমাবেশে এসে পৌঁছান আব্বাস সিদ্দিকি। মাঠে প্রবল উচ্ছ্বাসের কারণে কয়েক মুহূর্তের জন্য বক্তব্য থামাতে বাধ্য হন অধীর। এমনকি পোডিয়াম থেকে সরে যেতে দেখা যায় তাঁকে। মাস্কও পড়ে নেন তিনি। যদিও মঞ্চেই ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্টে নামেন বিমান বসু সহ বাম নেতৃত্ব। তারা অধীরকে ফিরিয়ে আনেন ও বক্তব্য দ্রুত শেষ করেন কংগ্রেস সভাপতি।

এরপরই আব্বাস তার বক্তব্যে প্রথম কয়েক মিনিট কংগ্রেসের নাম উচ্চারণ করেননি। বামফ্রন্টের প্রার্থীদের জেতানোর কথা বলেন আব্বাস। পরে যদিও কংগ্রেসকে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। তার কথায়, তোষণ নয়, ভাগীদার হতে এসেছেন তিনি। কংগ্রেসের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন বন্ধুত্ব করতে এলে তার দরজা খোলা রয়েছে।

সবমিলিয়ে গোটা ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মহল। বামের সাথে আই এস এফ-এর সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা হয়নি। সেই জট এখনো কাটেনি। আই এস এফ এর দাবি মতো আসন ছাড়তে রাজি নয় কংগ্রেস। অন্যদিকে মিমকে সঙ্গে নেওয়ার পক্ষে আব্বাসের সওয়ালের পর অন্য জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি বলেছেন, মিমকে সঙ্গে রাখা দরকার না হলে বিহারের মত অবস্থা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *