আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৩১ মার্চ:জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসককে খুন করার হুমকি। দফতরে বন্দুক দিয়ে গুলি করার চিহ্ন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এরই মধ্যে আবার নতুন করে দুটি গুলির ছিদ্রের হদিশ পাওয়ার শুক্রবার, তাতে আরও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে কর্মীদের মধ্যে। ঘটনার তদন্তে কোতোয়ালি থানায় পুলিশ।
এ দিন পুলিশ কর্মীরা দফতরে পৌঁছে কর্মীদের খানিক সময়ের জন্য বাইরে বের করে দেন। এরপর দফতরের খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখেন। ভূমি দপ্তরের প্রশাসনিক ভবনে গুলির চিহ্ন মিলেছে। যদিও পুলিশ জানায়, ব্যালেস্টিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে জলপাইগুড়ি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক রঞ্জন চক্রবর্তী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ, তাঁর দপ্তরে ঢুকে দুই ব্যক্তি তাকে খুন করার হুমকি দেয়। কারণ অতিরিক্ত জেলাশাসক নাকি নামের তালিকা মেনে নদীর চরে বসবাসকারীদের পাট্টা দিচ্ছেন না। সকলকে পাট্টা না দিলে খুন করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দফতরের ভিতরের আলমারি ও কাঁচে একটি চিহ্ন দেখা যায়। সেটি গুলির চিহ্ন হতে পারে বলে অনুমান।
তদন্ত চলাকালীন এ দিন আবার দফতরের ভিতরে দুটি গুলির চিহ্ন দেখা মাত্রই আতঙ্ক ছড়ায়। একটি দফতরের কাঁচের জানালায় ও একটি আলমারি মধ্যে গুলির চিহ্ন মিলছে। প্রাথমিক ভাবে এগুলি গুলির চিহ্ন বলে অনুমান। এদিকে নিরাপত্তা তোড়জোর করতে দফতরে চারিদিকে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন। জোর কদমে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
দফতরের এক কর্মী গিরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ভয়ে আছি সবাই। দিনের বেলায় এমন হলে তো বড় ঘটনা ঘটে যাবে। সবাই আতঙ্কে রয়েছি। তদন্ত চলছে।”
এ দিন জলপাইগুড়ি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এর বাইরে কিছু বলতে পারবো না।”

