অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৭ জানুয়ারি: অভিবাসী ভোটদাতা, ছাত্র অথবা অস্থায়ীভাবে যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁদের এসআইআর-এর শর্তাবলী মেনে দূর থেকে দ্রুত তাঁর নথিভুক্ত ঠিকানায় আসা অসুবিধার। এরকম যাঁরা এসআইআর-এর শুনানিতে নিজে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদের স্বস্তির খবর দিল নির্বাচন কমিশন।
বুধবার জানা গিয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে অভিবাসী বা, সাময়িকভাবে রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটদাতাদের পক্ষ থেকে কেউ, বা যে কোনও পারিবারিক সদস্য শুনানিতে উপস্থিত হতে এবং অংশগ্রহণ করতে পারবে। সঙ্গে নিম্নলিখিত নথিপত্র পেশ করতে বা কিছু বিধি মানতে হবে। সেগুলো হ’ল—
*ভোটদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথিপত্র।
*ভোটদাতার লিখিত অনুমোদন পত্র (সাধারণ কাগজে সম্পাদিত), যার স্ক্যান কপি বা ছবি গ্রহণযোগ্য হবে।
*সংশ্লিষ্ট ভোটদাতার শুনানির সময় ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত করা যেতে পারে এবং তিনি একটি ঘোষণাপত্র দাখিল করবেন যে তিনি তাঁর কর্মস্থলের নির্বাচক তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি।
*ভিডিও-র মাধ্যমে হওয়া কথোপকথন রেকর্ড ও আপলোড করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যা সরকারি নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
*শুনানির সময় ভোটারের পক্ষে উপস্থিত পরিবারের সদস্যের ছবি তোলা হবে এবং ভোটারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণকারী নথির সঙ্গে একত্রে ECINET পোর্টালে আপলোড করা হবে।
*অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে ERO/AERO সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলের শ্রম নিবন্ধীকরণ সংক্রান্ত নথি অথবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নথি যেমন—বেতন সংক্রান্ত কাগজপত্র, ফোন নম্বর, ই-মেল ইত্যাদি চাওয়া যেতে পারে।
*প্রয়োজন মনে করলে কর্মস্থল বা কাজের ঠিকানা প্রতিফলিত করে এমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণও যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
রাজ্যের বাইরে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক, ছাত্র- ছাত্রী, চাকরি অথবা চিকিৎসার কারণে রাজ্যের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে। সেগুলো হ’ল-
১) যিনি খসড়া ভোটার তালিকায় নিজের নাম বজায় রাখার জন্য ব্যক্তিগত শুনানি থেকে অব্যাহতির আবেদন করতে ইচ্ছুক, তিনি মোবাইলে প্রাপ্ত OTP ব্যবহার করে ECI পোর্টালে লগইন করবেন।
২) আবেদনকারীকে তাঁর ব্যক্তিগত বিবরণ দিতে হবে—মোবাইল নম্বর, ই-মেল ঠিকানা (যদি থাকে), আধার নম্বর (যদি থাকে), স্থায়ী ঠিকানা (যেখানে তিনি নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত রাখতে চান) এবং ওই স্থায়ী ঠিকানায় তাঁর নিকটতম আত্মীয়ের নাম (স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা ইত্যাদি)। পাশাপাশি তাঁর বর্তমান ঠিকানা ও নিয়োগকর্তার বিবরণ (ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ই-মেল ঠিকানা)-সহ বর্তমান ঠিকানা ও নিয়োগকর্তার বিবরণ (ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ই-মেল ঠিকানা) দিতে হবে।
এছাড়াও তাঁকে সাদা কাগজে তোলা নিজের ছবি এবং স্বাক্ষর (বা বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ) আপলোড করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা গ্রহণকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিবরণ দিতে হবে।
৩) তাঁকে নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে যে কোনো একটি আপলোড করতে হবে এবং ঘোষণার বিপরীতে নির্ধারিত ঘরে টিক চিহ্ন দিতে হবে।
৪) সমস্ত তথ্য পূরণের পর পরিযায়ী আবেদনকারী তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে (যা তাঁর মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে) ই-স্বাক্ষর করবেন। এরপর তাঁর আবেদন গ্রহণ/প্রক্রিয়াকৃত হয়েছে – এই মর্মে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস পাঠানো হবে।
৫) ERO/AERO সংশ্লিষ্ট আবেদনটি ERO অ্যাপে গ্রহণ করবেন এবং অন্যান্য বিষয়গুলির মতোই তা নিষ্পত্তি করবেন।
বিশদে জানতে ফোন করুন ১৯৫০ নম্বরে।

