সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া,২৩ নভেম্বর: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে লক্ষ্য করে প্রচার শুরু করে দিল বিজেপি। আগামী কয়েকদিন রাঢ় বঙ্গে প্রচার করবেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বিগত বিধানসভা ভোটে গোটা রাজ্যে দল খুব একটা ভালো ফল করতে না পারলেও এই রাঢ়বঙ্গের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় তৃণমূলকে প্রায় ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে বিজেপি। আর এতে অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি এই দুই জেলায় সমানে প্রচার করে গিয়েছিলেন।
সরকারিভাবে ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ না হলেও ২০২৩ এর গোড়ায় অথবা এপ্রিল- মে’তে ভোট ধরে নিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচার তাকে দিয়েই শুরু করে দিল বিজেপি। বুধবার পুরুলিয়ার লুধড়া থেকে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন এই সুপার স্টার। কাল বৃহস্পতিবার আসছেন বাঁকুড়ার মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে। এখানে দলের সর্ব স্তরের নেতা কর্মীদের নিয়ে ৩ টি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে মিঠুনের।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় শালতোড়া বিধানসভার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন দুর্লভপুরের একটি বেসরকারি লজে প্রথমে মন্ডল ও বুথ সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপর ১১ টা থেকে জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়ার দলীয় প্রার্থী চন্দনা বাউরিকে নির্বাচনের মুখ করে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই দিন মজুর চন্দনাকে সাথে নিয়ে গোটা শালতোড়া বিধানসভায় রোড শো করে প্রচার তুঙ্গে তুলেছিলেন। ফলস্বরূপ চন্দনা তৃণমূলের ডাকসাইটে নেতা সন্তোষ মন্ডলকে পরাজিত করে বিধায়ক হয়ে রাজনৈতিক মহলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। দুপুরে সেই চন্দনা বাউরির বাড়িতে মধাহ্ন ভোজ সারবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। এখান থেকে সন্তোষ মন্ডলের গড় শালতোড়ায় একটি কার্যালয়ের উদ্বোধন করে বিকেল ৪ টার সময় তিনি যাবেন মেজিয়ায়। সেখানে কলেজ মাঠে একটি কর্মীসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। শুক্রবার যাবেন বিষ্ণুপুরের সোনামুখীতে। একই ভাবে কর্মী বৈঠক করে দলের বিধায়ক দিবাকর ঘরামীর বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন করবেন। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি সুনীলরুদ্র মন্ডল জানান মিঠুনদার সাথে আগাগোড়াই থাকবেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
মিঠুনের পাল্টা তৃণমূলও শালতোড়ায় আনতে চলেছে সেলিব্রেটি কোনো নেতাকে। তারা চাইছে শত্রুঘ্ন সিনহা কিম্বা দেব এর মত কোনো বলিউড সাংসদ নেতাকে। ২৬ নভেম্বর দিনক্ষণও ঠিক হয়ে গেছে। তবে শত্রুঘ্ন বা দেবকে পাওয়া না গেলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমীর চক্রবর্তীরা আসছেনই বলে তৃনমূল সুত্রে খবর। তৃনমূলের গঙ্গাজলঘাটি ব্লক ২ এর সভাপতি তথা শিল্পাঞ্চলের পোড় খাওয়া নেতা নিমাই মাজি বলেন, ওরা ২০০ জনের কাছে গেলে আমরা ২০০০ মানুষকে সাথে পাব। মিঠুন চক্রবর্তীর মত ফ্লপ নেতাকে ময়দানে নামিয়ে বিজেপি ফায়দা তুলতে পারবে না।

