আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৫ মার্চ: মাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা দিতে গিয়ে অ্যাসিড হামলার শিকার হল এক ছাত্রী। ওই ছাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রীর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি হাইস্কুল ফর গার্লস স্কুলের ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে।
বছর ষোলোর ওই ছাত্রীর নাম হিরা মণি। বাপের বাড়ি নলহাটি থানার গোপালপুর গ্রামে। দিনমজুর পরিবারে দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে হিরা ছোট মেয়ে। আর্থিক কারণে বছর তিনেক আগে কিশোরী অবস্থায় মেয়ের বিয়ে দেন একই থানার সরধা গ্রামে রাজেশ শেখের সঙ্গে। রাজেশ মুম্বাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। তাদের ছয়মাসের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামী কর্মসূত্রে মুম্বাই চলে যাওয়ায় হিরা বাপের বাড়ি থাকত। মেয়েটি আটগ্রাম হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল। এবার মাধ্যমিকে আসন পড়েছিল নলহাটি হাইস্কুল ফর গার্লসে। কিন্তু স্বামী চাইছিল না হিরা মাধ্যমিকে বসুক। এনিয়ে ফোনে প্রায় ঝামেলা হত।
বাবা রুহুল আমিন বলেন, “খুব কষ্টে ছেলেমেয়েদের বড় করে তুলেছি। বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে সন্দেহ করত জামাই। এনিয়ে অশান্তি হয়েছে অনেক। মাস দেড়েক আগে জামাই মুম্বাইয়ে কাজে যায়। তারপর ফিরে এসে এই ঘটনা ঘটাল। আমি জামাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”।
মঙ্গলবার আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিল রাজেশ। হিরা স্কুলে ঢুকতে গেলে রাজেশ তাকে টেনে নিয়ে যায় স্কুলের সামনে সেচ দফতরের পিছনে একটি পুকুর পাড়ে। সেখানে বচসা চলাকালীন বোতলের ছিপি খুলে অ্যাসিড মুখে ছুঁড়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাজেশকে গ্রেফতার করে। তারাই হিরাকে প্রথমে নলহাটি ব্লক হাসপাতালে ও পরে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
হিরা জানায়, স্বামী আমাকে ফোনে জানতে চায় কোন স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছি। আমি জানিয়ে দিই নলহাটি হাইস্কুল ফর গার্লস স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছি। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই স্বামী স্কুল গেটে পৌঁছে যায়। এরপর আমাকে টেনে নিয়ে যায় স্কুলের সামনে ফাঁকা জায়গায়। স্বামী বার বার বলতে থাকে পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। আমি রাজি না হওয়ায় আমার মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেয়”।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

