পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৭ জুন: পরকিয়ার জের, হাতেনাতে পাকড়াও করে রাতভর অভিযুক্তদের বেঁধে রেখে মারধর গ্রামবাসীদের। সকাল হতেই সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে দিয়ে জুতোর মালা বদল করালো গ্রামবাসীরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাদ আঙিনা গ্রামের। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এক তৃণমূল নেতা ও পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশি সভা বসানোরও অভিযোগ এলাকায়। অভিযুক্ত ভুট্টুর কাছে সালিশি সভায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সহ ১০ কাঠা জমিও দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। এদিকে এই ঘটনার জেরে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে প্রথমে বালুরঘাট পরে শিলিগুড়ি এবং পরবর্তীতে কলকাতায় ভর্তি করা হয়েছে। যেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ভুট্টু। আহত অবস্থায় কুমারগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই মহিলাও।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সমজিয়ার বাদ আঙিনার বাসিন্দা ওই মহিলার সাথে সুন্দরপুরের বাসিন্দা তথা অভিযুক্ত ভুট্টুর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই অবৈধ সম্পর্ক ছিল। যে অশান্তির জেরে কয়েকমাস আগে গলায় ফাস দিয়ে আত্মঘাতী হয় অভিযুক্ত মহিলার স্বামী বলে দাবি গ্রামবাসীদের। শনিবার রাতে বাদ আঙিনা গ্রামে ওই মহিলার বাড়িতে পরকিয়ার সময় হাতেনাতে পাকড়াও করে গ্রামবাসীরা। সারারাত বাড়ির বারান্দায় দুজনকে দড়ি দিয়ে বেধে রেখে বেধড়ক মারধর চালায় গ্রাম বাসীরা বলে অভিযোগ। সকালে সালিশি সভা ডেকে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ারদের উপস্থিতিতে করা হয় জরিমানাও। এরপরে জোর করে সিঁদুর পড়িয়ে জুতোর মালা বদল করিয়ে বিয়েও দেন গ্রামবাসীরা। এর মাঝেও চলে মারধর বলেও অভিযোগ। যে ঘটনায় অসুস্থ হয়ে যায় অভিযুক্ত দু জনেই। প্রথমে তাদের বরাহার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে, ভুট্টুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে শিলিগুড়ি ও পরবর্তীতে কলকাতায় রেফার করেন চিকিৎসক। শনিবার রাত থেকে রবিবার দিনভর চলা এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে গোটা সমজিয়া এলাকায়। যদিও পুলিশের সামনে এমন ঘটনা হয়নি বলে দাবি করেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।

মহিলার শাশুড়ি নীলমণি কিস্কু জানিয়েছেন, নিজের স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই তাঁর ছেলে মারা গেছে। তিনি অভিযুক্তদের শাস্তি চান।
প্রতিবেশী দুলালী টুডু বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ী ওই মহিলা। নিত্যদিনের এই ঘটনায় এলাকায় তাদের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। তারা হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ ও মেম্বারের সামনেই মারধর করেছেন অভিযুক্তদের। তাঁরা সকলেই চান তাদের শাস্তি।
গ্রামের মাতব্বর বুধু বাস্কে জানিয়েছেন, অন্যায় কাজ হয়েছে। বাসিন্দারা দুজনের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। পুলিশ ও শুকলাল হাসদার উপস্থিতিতে সালিশি সভা হয়েছে। যেখানেই গ্রামবাসীদের ৫০ হাজার টাকা ও ১০ কাটা জমি দেবার চুক্তি হয়েছে।
যদিও এলাকার তৃণমূল সদস্যা সুমিত্রা মুরমুর স্বামী শুকলাল হাঁসদার বক্তব্য, তিনি পুলিশকে এনে তাদের মুক্ত করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনা হলেও টাকা বা জমির কোনও চুক্তি হয়নি।

