পিন্টু কুন্ডু, আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ৬ ডিসেম্বর: একাধিক অভিযোগে গঙ্গারামপুর কলেজের টিচার ইন চার্জের পদ থেকে সরানো হল দেবব্রত দাসকে। বুধবার ওই কলেজের অধ্যাপক সজল সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বভার তুলে দিয়েছেন কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি গৌতম দাস। এদিন বিকেলে কলেজের মিটিং হলে পরিচালন সমিতির একটি বৈঠকে সজলবাবুকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়েছেন দেবব্রত দাস।
জানাগেছে, বছর কয়েক আগে ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ছিলেন সজল সরকার। যেখান থেকেই সজল সরকাকে সরিয়ে বসানো হয়েছিল দেবব্রত দাসকে। প্রায় চারবছর ধরে সেই পদের দায়িত্বভার সামলান দেবব্রত দাস। প্রথমদিকে কিছু ভালো কাজ করলেও বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে খোদ শিক্ষা দপ্তরে। যার মাঝেই তৃণমূল অধ্যাপক সংগঠনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দায়িত্বও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দিন এগিয়ে যাবার সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে বাড়তে থাকে অভিযোগের বন্যাও। যে অভিযোগের বন্যা শুধুমাত্র শিক্ষা দপ্তরেই নয়, রাজ্য তৃণমূল অধ্যাপক সংগঠনের কাছেও জমা পড়ে। বিশেষ করে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে যখন কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত চরমে পৌঁছায়, ঠিক তখনই বালুরঘাট বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার হিসাবে নাম ঘোষণা হয় দেবব্রত দাসের। যা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছিল তৃণমূলের অন্দরে।
সুত্রের খবর অনুযায়ী, দেবব্রত দাস গোপনে বিজেপি নেতৃত্বদের সাথে আঁতাত করেই ওই পদ পেয়েছিলেন। যে ঘটনা একপ্রকার সামনে আসবার পরেই এনিয়ে দেবব্রত দাস সম্পর্কে রাজ্যস্তর থেকে জানতে চায় কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি গৌতম দাসের কাছে। এর পরেই গৌতম দাস কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দেবব্রত দাসকে টিচার ইন চার্জের পদ থেকে সরিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন। যে হিসাবেই এদিন অধ্যাপক সজল সরকারকে তার দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়েছেন কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি গৌতম দাস। যদিও এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক যোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন অধ্যাপক দেবব্রত দাস।
গঙ্গারামপুর কলেজের প্রাক্তন টিআইসি দেবব্রত দাস বলেন, চারবছর ধরে ওই চেয়ার সামলেছেন তিনি। একদিকে টিআইসি’র চেয়ার এবং অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলারের চেয়ার সামলানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছিল বলেই টিআইসির পদ থেকে সরে এসেছেন। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক সংযোগের কোনো ব্যাপার নেই।
গঙ্গারামপুর কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন, চেয়ার কারো স্থায়ী হয় না। এদিন দেবব্রত দাসকে টিআইসি’র পদ থেকে সরিয়ে সজল সরকারকে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিয়েছেন। আশা রাখছি সজলবাবু ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে সকলকে নিয়ে কাজ করবেন।

