আমাদের ভারত, মালদা, ৯ ডিসেম্বর: মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে দোষী প্রমাণিত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মালদার পাঁচ নং অতিরিক্ত দায়রা আদালত। ঘটনার তিন বছর পর সাজা ঘোষণা হওয়ায় খুশি মহিলার পরিবারের লোকেরা। বৃহস্পতিবার মালদা জেলা আদালতের ৫ নং অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক অসীমা পাল সমস্ত সাক্ষী-প্রমাণ খতিয়ে দেখে দোষীদের সাজা ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর মালদার ইংরেজবাজার থানার কোতোয়ালির ধানতলা এলাকায় আম বাগানের মধ্যে থেকে এক মহিলার অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। অগ্নিদগ্ধ দেহটি চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। দীর্ঘদিন পর মহিলার নাম পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নামে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।
জানা যায়, মৃত ওই মহিলার বাড়ি শিলিগুড়ি। পরিবারের লোকেরা ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানালে ঘটনার তদন্তে নেমে কোতোয়ালির বাসিন্দা বাপন ঘোষ ওরফে
ছোটনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা নং ৩০২, ৩৭৬ ও ২০১ আইপিসিতে মামলা রুজু হয়। করোনা পরিস্থিতিতে মাঝে কিছুদিন বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। গত দুই মাস আগে আদালতে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়ার শুনানি। এই মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষী প্রমাণ গ্রহণ করা হয়। সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে দোষী প্রমাণিত করে ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, ৩৭৬ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১০০০০ টাকা জরিমানা, এছাড়াও ২০১ ধারায় তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০০০০ টাকা জরিমানা ঘোষণা করে আদালত।

