আমাদের ভারত, হাওড়া, ৬ জুন: পারিবারিক বিবাদের জেরে ব্যস্ততম বাজারের মধ্যে এক প্রৌঢ়কে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে বাগনানের নুন্টিয়া বাজারে। মৃত ব্যক্তির নাম শেখ আব্দুল খালেক (৭৩)। বাড়ি বাগনানের খাজুরনান গ্রামে। ঘটনায় বাগনান থানার পুলিশ অভিযুক্ত শেখ আশরাফ’কে গ্রেফতার করেছে। ধৃতকে এদিন উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাগনান থানার পুলিশ মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি একটি খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জানাগেছে, অন্যান্য দিনের মতো রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ আব্দুল খালেক নুন্টিয়া বাজারে বাজার করতে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাজারে আসে আশরাফ। অভিযোগ, আব্দুল খালেক একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আচমকা আশরাফ একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল খালেকের ঘাড়ে কোপ মারে। ঘটনায় আব্দুল খালেক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর ফাঁকেই আশরাফ বাজার থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জনতা। তারা মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি বাগনান শ্যামপুর রাস্তায় নুন্টিয়া মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এমনকি বাগনান থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় নামানো হয় র্যাফ। ঘটনাস্থলে আসেন উলুবেড়িয়ার এসডিপিও অনিমেষ রায়। প্রায় ঘন্টাখানেক বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ দোষীকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়।
অন্যদিকে এই ঘটনার পর অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আশরাফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘটনা সম্পর্কে উলুবেড়িয়ার এসডিপিও অনিমেষ রায় জানান, অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে অনুমান পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


