নিরুদ্দেশ স্বামীকে ফেরানোর নামে পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগ ওঝা ও তাঁর সহকর্মীদের বিরুদ্ধে, বনগাঁয় প্রাণ গেল গৃহবধূর

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, বনগাঁ, ২০ ডিসেম্বর: নিরুদ্দেশ স্বামীকে বাড়ি ফেরাতে ওঝার কাছে গিয়ে একাধিকবার গণধর্ষণের শিকার। অপমানে আত্মঘাতী হল এক গৃহবধূ। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার কালপুর এলাকার। মৃত গৃহবধূর নাম ইন্দ্রা সরকার। মৃতার ভাই বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওঝাকে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।

পরিবার সূত্রের খবর, তিন বছর আগে তাঁর স্বামী আন্দামানে কাজে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও খোঁজ পাননি স্ত্রী। শেষমেশ এলাকার এক ওঝার কাছে যান ওই গৃহবধূ। আর সেখানে গিয়েই জীবনের চরম পরিণতির শিকার হলেন তিনি। ওঝা তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে গৃহবধূকে লাগাতার গণধর্ষণ করত বলে অভিযোগ। বাধা দিতে গেলে তার পাঁচ বছরের ছেলেকে খুন করার ভয় দেখাত ওঝা। অপমানে আত্মঘাতী হয় বনগাঁর ওই গৃহবধূ। পরিবারের দাবি, তিনি মৃত্যু আগে চিঠি লিখে গিয়েছেন। তিন বছর আগে তাঁর স্বামী ছোট সন্তান ও তাঁকে ফেলে আন্দামানে চলে যান। তারপর আর ফেরেননি। তার খোঁজ পেতে প্রতিবেশী কয়েকজনের পরামর্শে সুকুমার দাস নামে এক ওঝার কাছে গিয়েছিলেন ইন্দ্রাদেবী। অভিযোগ, সুকুমার ইন্দ্রার স্বামীকে ফিরিয়ে আনবে বলে আশ্বাস দেয় গৃহবধূকে। এরপর সে মাঝে মধ্যেই ওই গৃহবধূকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যেত। প্রায় একবছর ধরে সুকুমার ও তার সাগরেদরা মিলে তাকে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

এরপর ইন্দ্রাদেবী সাধুর কীর্তি ফাঁস করে দিতে চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ, শুধু ইন্দ্রাদেবীর নয়, তাঁর স্বামীর সর্বনাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয় সুকুমার দাস ও তার সাগরেদরা। এই চাপ আর সহ্য করতে পারেননি ইন্দ্রাদেবী। সোমবার সেখান থেকে বাড়ি ফিরে তিনি কাগজে বিস্তারিত সব লিখে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সুকুমার দাসকে গ্রেফতার করলেও তাঁর সহকর্মীরা পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃত ওঝাকে মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *