সকালের শিরোনাম, জলপাইগুড়ি, ৯ মে: চুরির সোনা কেনায় অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে থাকা রমেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে পুলিশের সামনেই সোনার কাজে ব্যবহৃত অ্যাসিড খাওয়ার অভিযোগ উঠল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রমেশ চিকিৎসাধীন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি’র কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত পান্ডা পাড়া চেক পোস্ট এলাকার রমেশের বাড়িতে।
জানাগিয়েছে, রমেশের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দক্ষিণ পান্ডা পাড়ায় নতুন বাড়ি তৈরি করছেন ষাটোর্ধ মিলি বারাড়ি। ওই বাড়িতে নাইট গার্ডের কাজ করতেন সুনীল রায়। দেড় মাস আগে সুনীলকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এদিকে ২৬ এপ্রিল বাড়িতে একাই ছিলেন মিলি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই যুবক ২৬ এপ্রিল রাতে বৃদ্ধা মিলির বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রান্না ঘরের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে মুখ ঢেকে দুই যুবক। এরপর আলমারি থেকে কয়েক ভরি সোনার গয়না ও পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
পরে পুলিশ তদন্তে নেমে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে একজন ওই বাড়ির নাইট গার্ড সুনীল ছিল। পুলিশ তদন্তে নেমে ধৃতদের জেরা করে চুরির সোনা কেনার অভিযোগে রমেশ কর্মকারকে গ্রেফতার করে আদালতে তুললে তিনদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। সোমবার রাতে ধৃত রমেশকে নিয়ে চুরির সোনা বাজেয়াপ্ত করতে রমেশের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। রমেশ বাড়িতে সোনার কাজ করত। পুলিশের সামনে রমেশ আ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশও জখম হয়।
রমেশের শাশুড়ি পারুল কর্মকার বলেন, “বাড়িতে জামাইকে নিয়ে এসেছিল পুলিশ। তাদের সামনে জামাই রমেশ অ্যাসিড খেয়েছে। আর ঘরের সব সোনা নিয়ে যায়।”
এদিকে মিলি বাড়ারি বলেন,” আমি বাড়িতে একাই ছিলাম। আমার বাড়ির আশেপাশে কোনো বাড়ি নেই। ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে আমাকে বেঁধে রেখে আলমারি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ও সোনা নিয়ে যায়। পরে শুনলাম আমার বাড়িতে যে নাইট গার্ড ছিল সে এই চুরির ঘটনায় যুক্ত। পুলিশ খুব ভালো কাজ করছে।”
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের সামনে এমনটা হল কিভাবে। তা জানতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার উমেশ খান্ডাবাহালে গণপত বলেন, “এক পুলিশ অফিসারকে শোকজ করে ঘটনায় বিভাগকারী তদন্ত শুরু হয়েছে।”

