আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৩ মার্চ: প্রেমিককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ প্রেমিকার বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে খড়দহে।
দীর্ঘ ৬ বছর খড়দহ কল্যাণ নগর মাঠপাড়া এলাকার বছর ২৭-এর যুবক বিক্রম ব্যানার্জির সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন খড়দহ কুলিনপাড়ার যুবতী মৌসুমী দাস। অভিযোগ, বিক্রম নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে, প্রেমের সম্পর্ক হবার পর থেকেই মৌসুমী দাসের অর্থ ও বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য বিক্রমের ওপর চাপ সৃষ্টি করত তার প্রেমিকা মৌসুমী দাস। বিক্রম নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও ভালোবাসার জন্য মৌসুমী দাসের সেই শখ পূরণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মৌসুমী দাস তার বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য বিক্রম ছাড়া অন্য এক যুবকের প্রেমে লিপ্ত হয় বলেও অভিযোগ।
বিক্রমের বাড়ির আত্মীয়দের দাবি, বিক্রম মৌসুমীকে এতটাই ভালবেসে ফেলেছিল যে মৌসুমীকে ভুলে যাওয়া তার পক্ষে মৃত্যুর সমান ছিল। মৌসুমী সারাক্ষণ বিক্রমের কাছে টাকা চাইত। সে বিক্রমের মৃত্যুর আগে তাকে গাড়ি কিনে দেওয়ার দাবি করে আর বিক্রম সেটা কেনার জন্য সময় চেয়েছিল। কিন্তু মৌসুমী তাকে কোনো সময় দিতে রাজি ছিল না। আর এতেই দু’জনের মধ্যে সমস্যা বেড়ে যায়। অবশেষে চাপ নিতে না পেরে আত্মঘাতী হল বিক্রম। পরিস্থিতি এবং চাপ এমন জায়গায় পৌঁছে গেছিল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজের ঘরে ফ্যানে গামছা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বিক্রম ব্যানার্জি। ঘটনার পরে এলাকার মানুষজন দোষী প্রেমিকা মৌসুমী দাসের শাস্তির দাবিতে সরব হয়। মৌসুমীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান বিক্রমের পরিবার।
বিক্রমের মা মল্লিকা ব্যানার্জি তার ছেলের মৃত্যুর জন্য ছেলের প্রেমিকা মৌসুমী দাসেকেই দায়ী করেছেন। খড়দহ রহড়া থানায় মৌসুমী দাসের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ জানানোর ১৭ দিন কেটে গেলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত মৌসুমীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মৌসুমীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের লোকজন পুলিশের প্রতি আস্থা হারিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ দেখায়।
মৃত বিক্রমের মা বলেন, “আমার ছেলেকে টাকার জন্য চাপ দিত ওর প্রেমিকা। ওর অত্যাচারে আমার ছেলে মারা গেছে। আমি পুলিশকে বলেছিলাম কিন্তু পুলিশ ওই মেয়েকে গ্রেপ্তার করেনি। তাই আজ আমরা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি।” তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিকা পলাতক।

