সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ ডিসেম্বর: আইনকে মান্যতা দিতে দশ বছর ধরে জমে থাকা প্রায় ৫৭টি হাতির দাঁত উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে নষ্ট করল বন দফতর। আজ বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় বন দফতরের কড়া নজরদারিতে একটি চুল্লিতে উচ্চ তাপমাত্রায় এই হাতির দাঁতগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়।
প্রতি বছরই দলমা পাহাড় থেকে দলে দলে হাতি খাবারের খোঁজে এসে হাজির হয় বাঁকুড়ায়। বছরের একটা বড় সময় ধরে সেই হাতির দল থেকে যায় বাঁকুড়ায়। এই হাতির দলের দু’ একটি হাতি অসুস্থতা, বার্ধক্য ও অন্যান্য কারণে প্রায় প্রতি বছরই বাঁকুড়ার জঙ্গলে মারা যায়। বন দফতরের নিয়ম অনুযায়ী মৃত হাতিগুলির দেহ ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই তাপমাত্রায় হাতির দাঁত অবিকৃত থেকে যায়। ফলে হাতির দাঁত চোরাচালানের ভয়ে মৃত হাতির দেহ পোড়ানোর আগেই তার দাঁত কেটে নেওয়া হয় বন দফতরের তরফে।
গত দশ বছর ধরে বাঁকুড়া উত্তর, বাঁকুড়া দক্ষিণ ও বিষ্ণুপুর এই তিনটি বনবিভাগ মিলিয়ে মোট ৫৭টি হাতির দাঁত বন দফতরের সংগ্রহে মজুত ছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বন্য আইনে নতুন করে যোগ হয় কোনও বন্যপ্রাণীর দেহাবশেষ রক্ষণ করা যাবে না। সেই অনুযায়ী কোনো পরিস্থিতিতেই হাতির দাঁত ব্যবহার করা যাবে না। সে কারণে বন দফতরের সংগ্রহে থাকা দাঁত নষ্ট করে ফেলতে হবে বন দফতরকেই। সেই আইন অনুযায়ী আজ বাঁকুড়ার তিনটি বনবিভাগ যৌথ ভাবে বাঁকুড়ায় সংগৃহীত হাতির ৫৭টি দাঁত পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেয়। বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় বন দফতরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতি ও কড়া নজরদারির মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রার একটি চুল্লিতে হাতির ওই দাঁতগুলি পুড়িয়ে ফেলা হয়।
চিফ কনজারভেটিভ অফ ফরেস্ট এস কুলানডাইভাল বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী আমাদের সংগৃহীত ৫৭টি হাতির দাঁত পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হলো।

