সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৫ মার্চ: ভোটের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুঠ করার অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পুরুলিয়ার বলরামপুরে মমতার দাবি, পায়ে চোট লাগার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি আর নির্বাচনের ময়দানে থাকবেন না৷ কিন্তু সেই অনুমান যে ভুল, তা তিনি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছেন বলে বার্তা মমতার৷ তাঁর আশঙ্কা, তিনি ভোটের ময়দান থেকে সরে গেলে বহিরাগতরা ভোট লুট করবে ৷ কিন্তু প্রাণ থাকতে তিনি তা হতে দেবেন না বলে জানান তৃণমূল সুপ্রিমো৷
এদিন বলরামপুরের রথতলা ময়দানে সভা ছিল মমতার৷ সভামঞ্চের পিছনেই তৈরি করা হয় অস্থায়ী হেলিপ্যাড৷ তৃণমূল সুপ্রিমোর হেলিকপ্টার সেখানে নামে দুপুর আড়াইটে নাগাদ৷ মমতা ভাষণ শুরু করেন তিনটে নাগাদ৷ বক্তব্য রাখেন প্রায় ৪০ মিনিট৷ পায়ে প্লাস্টার থাকায় ব়্যাম্পের উপর দিয়ে হুইলচেয়ারে বসিয়ে তাঁকে সভামঞ্চে পৌঁছে দেওয়া হয়৷ মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ শুরু হতেই সভাস্থলে ভিড় আরও বাড়তে থাকে৷ যেখানে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রুখা-শুখা এই জেলা বরাবরই কৃষিকাজে পিছিয়ে৷ এদিন বলরামপুরের সভামঞ্চ থেকে জেলার চিরাচরিত সেই রূপই বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মমতা ৷ তিনি জানান, পুরুলিয়াকে শস্য শ্যামলা করতে উদ্যোগ শুরু করেছে তাঁর সরকার৷ মাটির চরিত্র বদলে তাকে যাতে চাষযোগ্য করে তোলা যায়, তার জন্য শুরু হয়েছে গবেষণা৷ উর্বর মাটি তৈরি করতে জেলাজুড়ে কাজ চলছে৷ হাতে নেওয়া হয়েছে ৬৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প৷ এছাড়াও, পুরুলিয়া ও পুরুলিয়াবাসীর উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকার কী কী কাজ করেছে এবং করছে, তারও লম্বা ফিরিস্তি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তুলে ধরেছেন তৃণমূল জমানায় পুরুলিয়ার রাস্তাঘাট-সহ সামগ্রিক উন্নয়নের ছবি৷

মমতার গলায় ফের একবার উঠে এল মানুষের যন্ত্রণার কথা, প্রয়োজনের কথা৷ আজ বাঘমুণ্ডিতে জনসভায় এসে নন্দীগ্রামের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “১০ তারিখ সৌভাগ্যবশত বেঁচে গিয়েছি৷ ভেবেছিলাম প্রচারে আসতে পারব না৷ কিন্তু আমার যন্ত্রণার থেকে মানুষের প্রয়োজন অনেক বেশি৷ মানুষের যন্ত্রণা অনেক বেশি৷ পাশাপাশি দলীর কর্মীদের অভিমান ভুলে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷
সভাথেকে তৃণমূল সরকারের ১০ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য উঠে আসে রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, দুয়ারে সরকার সহ একাধিক প্রকল্পের কথা৷ বাঘমুণ্ডিতে, অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় একসময় সন্ত্রাস ছিল৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ অনেক উন্নয়ন হয়েছে৷ যা উন্নয়ন হয়েছে এখনও পর্যন্ত সেরকম উন্নয়ন কোনও সরকার করেনি৷
সভাথেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের সুর চড়ান তিনি৷ তাঁর অভিযোগ, টাকা দিয়ে ভোট করায় বিজেপি৷ মানুষের কাছে তাঁর বার্তা, টাকা দিয়ে চরিত্র বিক্রি করবেন না৷ মাথা নত করবেন না৷ চরিত্র নষ্ট হলে সব নষ্ট হয়ে যায়৷
শেষে অভিমানী দলীয় কর্মীদের প্রতি তাঁর বার্তা, তোমরা অনেক লড়াই করেছ। যুদ্ধের সময় অভিমান করে বসে থাকতে নেই৷ সব ভুলে লড়াইয়ে শামিল হও৷ শেষে বিজেপির প্রতি তাঁর বার্তা, যতই চেষ্টা করো তোমরা আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবে না৷

