পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩ নভেম্বর: মা বাবা হারিয়ে চার অনাথ আদিবাসী শিশুকন্যার অর্ধাহার ও অনাহারে থাকার করুন কাহিনী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই তাদের পাশে দাঁড়ালো তৃণমূল। একমাসের খাবার তুলে দিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে হিন্দু সংহতিও। মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষজন যথাসম্ভব সাহায্য নিয়ে এলাকায় পৌঁছাতেই হাসি ফুটেছে মা-বাবা হারানো চার শিশুকন্যার মুখে। খুশিতে আপ্লুত হয়েছেন শিশুকন্যার বৃদ্ধ দাদু-দিদা সহ প্রতিবেশীরাও। হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা রজত রায়ের নেতৃত্বে তিওড়ের নওপাড়া এলাকায় ওই আদিবাসী পরিবারের হাতে যাবতীয় খাবার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনা জানবার পরেই বুধবার সকালে সেখানে পৌছন আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি রাকেশ শীল। অসহায় শিশুদের পাশাপাশি বৃদ্ধ বৃদ্ধার হাতেও তুলে দিয়েছেন নতুন পোশাক। শুধু তাই নয়, আগামী এক মাসের খাবার সামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি আগামীতে যাতে ওই পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য মাসে মাসে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, হিলির বিনশিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিওড় নওপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুন্সি হেমব্রম। বয়স জনিত কারনে তিনি নিজেই সঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পেট চালাতে নিজের বার্ধক্য ভাতার উপরই নির্ভর করে থাকতে হয় তাকে। চার বছর আগে জামাই সুকল সরেন টিবি রোগে এবং একবছর আগে মেয়ে মিনতি হেমব্রমের মৃত্যু হয় ইলেকট্রিক শক খেয়ে। মেয়ে ও জামাইয়ের এমন মৃত্যুর পরে অভিভাবকহীন হয়ে পড়া পাঁচ নাতনিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন বৃদ্ধ মুন্সি হেমব্রম। বড় নাতনির বিয়ে দিতে সক্ষম হলেও বাকি চার নাতনিকে নিয়ে চরম দুরবস্থায় পড়েন বৃদ্ধ মুন্সি ও তার স্ত্রী ভুলি হাঁসদা। অসহায় পরিবারটিতে রোজগেরে ব্যক্তি না থাকায় বৃদ্ধ মুন্সি হেমব্রমের মাসিক এক হাজার টাকার বার্ধক্য ভাতায় তাদের সংসার চলছিল। আর যার জেরে বিগত এক বছর ধরে করোনার সঙ্কটকালে একপ্রকার অনাহারেই দিন কেটেছে হতদরিদ্র ওই আদিবাসী পরিবারটির।
এমন খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পরই একে একে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। মঙ্গলবার হিন্দু সংহতির তরফে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়। যারপর এদিন সকালে অসহায় ওই আদিবাসী পরিবারকে শুধু খাবার জিনিস বা পোশাকই নয় তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিমাসে তাদের যাবতীয় খাবার জিনিস দেবার আশ্বাস দেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রাকেশ শীল।
ছোট্ট সুনীতা জানায়, তাদের অনেকেই সাহায্য করতে এসেছে। তারা চায় পড়াশোনা করতে।
প্রতিবেশী সাহামনি মার্ডি জানিয়েছেন, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার। খবর প্রকাশের পর অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি চান দীর্ঘ সময়ের জন্য ওই পরিবারের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক প্রশাসন।
হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা রজত রায় বলেন, দুস্থ অসহায় মানুষদের পাশে সবসময় হিন্দু সংহতি রয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যম মারফত এমন খবর পেতেই তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগামীতেও তাদের পাশে সবরকম ভাবে সাহায্য করবে তাদের সংগঠন।
আই এন টিটি ইউসির জেলা সভাপতি রাকেশ শীল বলেন, সত্যিই খুব অসহায় একটি পরিবার। তাদের পাশে এভাবে দাড়াতে পেরে তার নিজেরও খুব ভালো লাগছে। আজকে জামাকাপড় ও একমাসের খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট সময়ে ওই পরিবারটির হাতে খাবার তুলে দেবেন তারা।

