কুসংস্কারের বলি, বনগাঁয় সাপে কাটা গৃহবধূকে নিয়ে যাওয়া হল ওঝার কাছে

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৪ জুলাই: কুসংস্কারে শিকার হয়ে সাপের কামড়ে গত কয়েক মাসে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার নানা প্রান্তে। কিছু মানুষ এখনও চিকিৎসকের পরিবর্তে ওঝা-গুনিনের উপরে ভরসা রাখেন। যতক্ষণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে, ততক্ষণে চিকিৎসকদের বিশেষ কিছু করার থাকে না। প্রাণ বাঁচানো যায় না রোগীর।

বৃহস্পতিবার সকালে বাগানে কলা গাছ থেকে মোচা কাটতে গিয়েছিল বনগাঁ থানার পুরাতন বনগাঁ এলাকার গৃহবধূ সুষমা রায়। জঙ্গলে ঢুকতেই তাঁর ডান পায়ে সাপে কামড় দেয়। এরপর পরিবারের লোকেরা তাকে পাশের গ্রামের এক ওঝার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওঝার কীর্তি দেখে তাজ্জব পুরতন বনগাঁর মানুষ। সেখানে তাকে ঝাড়ফোক করে ওষুধ খাইয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় ওঝা। বাড়িতে ফিরেই মহিলার সারা শরীর জ্বালা করতে শুরু করে। এরপরই সুষমার মৃত্যু হয়।

মৃত বধূর মায়ের বক্তব্য, তাকে সাপে কামড় দিয়েছে। ওঝার কাছে নিয়ে গেলে তাকে চিকিৎসা করে বলেন, প্রয়োজনে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেন। তাঁকে বিষধর কোনো সাপ কামড়ায়নি। বাড়িতে আনার পর তার মৃত্যু হয়েছে। পায়ের সাপের কামড়ে দাগ রয়েছে।

ওঝা মধুবাবু জানিয়েছেন, “ওকে জলঢোরা সাপ কামড়েছিল। কোনো বিষ পাইনি। ওষুধপত্র দিয়েছিলাম। বলেছিলাম যদি মনে হয় হাসপাতালে যেতে পারেন। ওনার শরীরে অন্য কোনো সমস্যা ছিল তাই তার মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি জেনেছেন যুক্তিবাদী মঞ্চের সদস্যরা। মঞ্চের এক সদস্য বলেন, সাপে কামড়ানো রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতলে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হতো না। আজও অনেক মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করছেন, এটাই আশ্চর্যের। পুলিশের কাছে ওঝার গ্রেফতার দাবি করছি।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *