“তিনি বলেছেন হাজার হাজার বছর আগে যখন ইউরোপে কোনও সভ্যতা তৈরি হয়নি তখন থেকেই কৌটিল্য চাণক্যের মাধ্যমে ভারত কূটনীতি বিদ্যায় পারদর্শী।”
আমাদের ভারত, ২৪ ফেব্রুয়ারি: বৃহস্পতিবার সকালেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের পূর্ব সীমানায় দুটি বিচ্ছন্নতাবাদী অঞ্চলকে পুতিন স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পর থেকেই যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের দামামা আজ বেজে গেছে। একের পর এক হামলাও চলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে আসতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য প্রার্থনা করলেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত। এক্ষেত্রে ভারতের কৌটিল্য চাণক্যের মতো কূটনৈতিক ইতিহাসকেও স্মরণ করিয়েছেন তিনি।
শুরু হতে না হতেই যুদ্ধের বলি হয়েছেন ৫০ জন। ইউক্রেনে তরফেও দাবি করা হয়েছে ৪০ জন রুশ নাগরিক মারা গেছেন সংঘর্ষে। একের পর এক বিস্ফোরণের আওয়াজ ভেসে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে সাহায্য চাইল ইউক্রেন। রাশিয়া– ইউক্রেনের যুদ্ধের মাঝে ইউক্রেনের দূত ইগর পোলিখা ভারতের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে এই আশঙ্কায় পোলিখা বলেছেন, “মোদীজি বিশ্ব নেতাদের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এবং সম্মানীয় নেতা। আপনার রাশিয়ার সঙ্গে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে মোদীজি পুতিনের সঙ্গে কথা বললে পুতিন সাড়া দেবেন।”
রাশিয়া-ইউক্রেন নিয়ে প্রথম থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সংঘাত এড়ানোর জন্য আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আবেদনও ভারত জানিয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই ইস্যুতে ভারতকে নিরপেক্ষ থাকতে দেখা গেছে। আজ সকাল ছটায় পুতিন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে বিশেষ মিলিটারি অপারেশন শুরু হচ্ছে। তারপরই রাশিয়ার ট্যাংক ও অন্যান্য ভারী অস্ত্র সামগ্রীর রাশিয়ার উত্তর সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনের ঢুকে হামলা চালায়। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে ভারতের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের দূত বলেছেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্ক থাকায় ভারতের আরো এক্ষেত্রে সক্রিয় অংশ নেওয়া উচিত। শুধুমাত্র আমাদের সুরক্ষার জন্যই নয়, নিজের নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে আমরা এ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ চাই।” তিনি আরও বলেছেন, তারা কোনও প্রটোকল বিবৃতি চান না। এর ফলে কিছু হয় না। তাদের গোটা বিশ্বের সমর্থন প্রয়োজন।
ইউক্রেনের দূত মহাভারতের উল্লেখ করে মোদীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার জন্য। তিনি বলেছেন হাজার হাজার বছর আগে যখন ইউরোপে কোনও সভ্যতা তৈরি হয়নি তখন থেকেই কৌটিল্য চাণক্যের মাধ্যমে ভারত কূটনীতি বিদ্যায় পারদর্শী। বিশ্বে ভারতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং অনেক বছর ধরে ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে।

