আমাদের ভারত, কলকাতা, ৩১ জানুয়ারি: করোনাকালে ’শিক্ষা নিয়ে ছেলেখেলা’-র প্রতিবাদে সোমবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সমর্থকরা বিকাশভবন অভিযানে যায়। অবিলম্বে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে তারা বিক্ষোভ দেখায়। প্রতিবাদীদের প্রায় ৪০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এমতাবস্থায় রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার দাবি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কলেজ স্ট্রিটে আমরা বিক্ষোভ জানিয়েছিলাম, কিন্তু এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকার কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করেনি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আমরা সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিতে আসি।“
এবিভিপি-র স্মারকলিপিতে লেখা হয়েছে, “স্বামীজীর কথা অনুসরণ করে বলতে হয় শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম যার দ্বারা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত ক্ষমতার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের মধ্য দিয়ে সমাজ ও দেশের স্থায়ী এবং সর্বাঙ্গীন বিকাশ সম্ভব। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে আমারা বলতে বাধ্য হচ্ছি পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপ শিক্ষার মানকেই কেবলমাত্র তলানিতে নিয়ে যায়নি, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎকেও ঠেলে দিয়েছে ভয়ঙ্কর অন্ধকারের দিকে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে যে সীমাহীন দুর্নীতি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাকালে শিক্ষা নিয়ে ছেলেখেলা। সরকারের পৃষ্টপোষকতায় হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ সহ খেলা, মেলা, ভোট সবই চলছে অথচ প্রায় দুবছর ধরে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সরকার ঘটা করে বাচ্চাদের হাতে ট্যাব তুলে দিয়েছে কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে নুন্যতম অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এই যাবৎকালে পরীক্ষার নামে চলেছে প্রহসন। তাই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পক্ষ থেকে শিক্ষার স্বার্থে নিম্নলিখিত দাবীসহ স্মারকলিপি পেশ করা হলঃ
১। পাড়ায় পাড়ায় স্কুলের গিমিক না করে অবিলম্বে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হবে।
২। সোস্যাল ডিসট্যান্সিং রক্ষা করে কিভাবে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা যায় তার রূপরেখা চিকিৎসক, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করতে হবে।
৩। অবিলম্বে জাতীয় শিক্ষানীতিকে অনুসরণ করে পাঠক্রম থেকে মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষানীতিকে অনুসরণ করে সকল পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্য সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগলে তা শিক্ষায় বেসরকারিকরণকেই ত্বরান্বিত করবে আর বঞ্চিত হবে গরীব, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রী।
৪। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গবেষকদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা দূর করার যথোপোযুক্ত ব্যবস্থা অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে।
৫। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার নামে শিশুদের চার বছর থেকেই অনলাইন ক্লাসের মধ্য দিয়ে যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৬। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য মনোবিদ নিয়োগ সহ সকল দরকারি পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭| শিক্ষক নিয়োগ দির্ঘদিন বন্ধ থাকায় এবং সরকারের বদলি নীতির কারণে বিশেষ করে গ্রামের বিদ্যালয়গুলিতে যে শিক্ষক শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা অবিলম্বে দূর করতে হবে।
৮। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের নিবাসগুলিকেও দ্রুততার সঙ্গে খুলতে হবে।
৯। জাতীয় শিক্ষানীতি যথাযথ রূপায়নে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কয়েক জন বাড়াতে হবে।
১০। সর্বোপরি শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে।“

