আমাদের ভারত, ৭ সেপ্টেম্বর: বাগুইআটি ছাত্র হত্যাকান্ড পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনিক পুলিশ ব্যবস্থার নগ্ন রূপের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)।
রাজ্য সম্পাদক সঙ্গীত ভট্টাচার্য বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, “পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা তৃণমূলের নেতা বা তৃণমূল ঘনিষ্ট।
পশ্চিমবঙ্গের সুশীল সমাজের অধিকাংশই এই নিয়ে কোনো বক্তব্য রাখছেন না। পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে তাদের কি– এই মনোভাব নিয়ে এখনো অনেকেই চলছেন। অবশ্য যেভাবে দিন দিন আগুন বাড়ছে সেখানে তাদের বাড়িতেও যে শীঘ্রই আগুন লাগতে পারে সেটা তারা ভুলে গেছেন।
আমরা দেখে আসছি দীর্ঘদিন ধরেই এই রাজ্যে কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ দোষীদের খোঁজার থেকে বেশি তৎপর ঘটনা লুকানোর পিছনে। বাগুইআটির নিহত দুই ছাত্র অতনু দে এবং অভিষেক নস্করের ঘটনার ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। এই ক্ষেত্রেও পুলিশ প্রথমেই দুই পরিবারকে অপহরণের খবর মিডিয়াকে না জানানোর জন্য চাপ দিতে থাকে। পরিবার সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেও পর্যাপ্ত তদন্তযোগ্য তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে থাকে। কিন্তু তারপরও পুলিশ ১৭ দিনে কোনো কিছু করতে পারেনি।
পরিবার অভিযুক্ত কিডন্যাপারদের নাগাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেও পুলিশ তা পারেনি। ফলস্বরূপ ১৭ দিন পর বসিরহাট হাসপাতালের মর্গ থেকে দুই সন্তানের পচা মৃতদেহ পাওয়া গেলো। আর এইভাবেই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের না প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও একবার পশ্চিমবঙ্গবাসী দেখলো।
অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা বাগুইআটির দুই ছাত্রের নৃশংস হত্যাকণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে যেভাবে আজ দুই মা সন্তানহারা হয়েছেন তার জন্য পুলিশ মন্ত্রী তথাপি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়াকে পদত্যাগ করতে হবে। এছাড়াও সিবিআই তদন্তের মধ্য দিয়ে খুনে অভিযুক্তদের দ্রুত কঠোর থেকে কাঠারতম শাস্তি ও এর পাশাপাশি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় জড়িত সকল পুলিশ অফিসারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

