কল্যাণীতে ‘জাতীয় ছাত্র দিবস’ পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত বিদ্যার্থী পরিষদের কার্যকর্তারা

অশোক সেনগুপ্ত

আমাদের ভারত, ৯ জুলাই: শুক্রবার নদীয়ার কল্যাণীতে ‘জাতীয় ছাত্র দিবস’ পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বিদ্যার্থী পরিষদের কার্যকর্তারা। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার শুক্রবার এই অভিযোগ জানিয়েছেন।

সুরঞ্জনবাবুর অভিযোগ,পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী কন্ঠের কন্ঠরোধ নিত্যদিনের ঘটনা। এখানে ভোটপূর্ব পরিস্থিতি হোক বা ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি সর্বক্ষেত্রেই হিংসা ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ বিরাজমান। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১০ বছর ধরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তারই নিদর্শন তৈরি করে এসেছে , ফলস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে বার বার আক্রান্ত হতে হয়েছে বিদ্যার্থী পরিষদের কার্যকর্তাদের।

শুক্রবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। কার্যকর্তারা সর্বস্তরের ছাত্রসমাজের মধ্যে জ্ঞান, চরিত্র ও একতার ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্য এই দিনটিকে ‘জাতীয় ছাত্র দিবস’ হিসেবে পালন করে। ঠিক এমনই উদ্দেশ্য নিয়ে এবিভিপি কল্যাণী শাখার কার্যকর্তারা তাদের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই দিনটিকে উদযাপন করছিলেন। কিন্তু এবিভিপি-র গৈরিক পতাকা সেখানকার অসহিষ্ণু রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু স্থানীয় শাসকদলের মানুষদের সহ্য হয়নি। তাই তারা তাদের মনের ক্ষোভ মেটাতে সেখানে উপস্থিত আমাদের সদস্য বিধান রায়, বিশ্বজিৎ মজুমদার, সবুজ দাস সহ বাকি কার্যকর্তাদের উপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালায় এবং কার্যক্রমকে পন্ড করে দেয়।

তিনি বলেন, এরকম ভাবেই তৃণমূলী দুষ্কৃতী আতঙ্কের সাথে সংগ্রাম করে আমাদের কার্যকর্তাদের বাঁচতে হয়। প্রতি মুহূর্তেই পশ্চিমবঙ্গের কোনো না কোনো অংশে আমদের কার্যকর্তারা বিভিন্ন রকম ভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। একসময় মা -মাটি -মানুষের স্লোগান তুলে সরকারে আসা এই শাসকদলের নির্মমতা দেখে সারা রাজ্যের মানুষ আজ আতঙ্কিত এবং স্তম্ভিত। আজকের এই ঘটনার জন্য অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তীব্র ধিক্কার জানায়। সেইসাথে প্রশাসনের কাছে আমরা ঘটনায় জড়িত সকল দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানাচ্ছি।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *