জাতীয় শিক্ষানীতির নামে বাণিজ্যিক মডেল চালুর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে তোপ আবুটা-র

আমাদের ভারতে, ৪ এপ্রিল: জাতীয় শিক্ষানীতির নামে বাণিজ্যিক মডেল চালু করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ‘যৌথ অভিসন্ধি’র তীব্র নিন্দা করল অল বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (আবুটা)।

আবুটা-র সাধারণ সম্পাদক গৌতম মাইতি এক বিবৃতিতে জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি (২০২০) কার্যকর করার জন্য এ রাজ্যের সরকার সম্প্রতি যে কমিটি গঠন করেছে তার প্রথম সভার সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে রাজ্য সরকার এই শিক্ষানীতি কার্যকর করার দিকেই এগোচ্ছে।

যে তিনটি প্রশ্ন তৈরী করে উপচার্যদের কাছ থেকে চটজলদি উত্তর চাওয়া হয়েছে তা থেকে বোঝা যাচ্ছে শিক্ষার নীতিগত বিষয় নিয়ে চর্চা করার কোনও এক্তিয়ার তাদের নেই। সরকারের ইচ্ছে অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষানীতিকে কার্যকর করার জন্য তারা কৌশল রচনা করবেন মাত্র। তাই তারা শুধুমাত্র পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরী করে রাজ্য সরকারের মুখরক্ষা করার কৌশল নিয়েছেন।

আমাদের প্রশ্ন হল, যদি উপযুক্ত পরিকাঠামোর ব্যবস্থাও করা যায় তাহলেও কি এই শিক্ষানীতিকে কার্যকর করা যায়? কমিটিতে যুক্ত শিক্ষাবিদরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন?

উল্লেখ্য, একসময় জাতীয় শিক্ষানীতির (২০২০) বিরোধিতা করেও গত ১৭ মার্চ রাজ্য সরকার তাকে হুবহু অনুসরণ করে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক স্তরে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালু করার অভিনব নকশা ‘কারিকুলাম অ্যান্ড ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক’কে কার্যকর করার জন্য রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নির্দেশ দেয় । তারপর আবার রাজ্য সরকারের জারি করা এক সংশোধনী নির্দেশিকা থেকে জানা যায় যে তারা তা কার্যকর করার আগে এর সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলিকে খতিয়ে দেখতে চায়।

আসলে তারা এই কমিটি গঠন করেছে এই শিক্ষানীতিকে কার্যকর করার জন্য যুক্তি সাজাতে। নাহলে এ বিষয়ে তারা শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, ছাত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মতামত নিত। সে ঝুঁকি তারা নিতে চায়নি। ইউজিসি এই শিক্ষানীতি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও পরিকাঠামোর ব্যাপারে কোনো আশ্বাস দেয়নি। এখানেই রাজ্য সরকারের মূল আপত্তি। এটা পরিষ্কার যে এই জনবিরোধী শিক্ষানীতি চালু করতে রাজ্য সরকার অনাগ্রহী নয়।

‘কারিকুলাম অ্যান্ড ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক’ এবং চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালু হলে প্রান্তিক স্তরের ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশের পথ রুদ্ধ হবে। শিক্ষার গুনমান হ্রাস পাবে। অর্থ ও পরিকাঠামোর অভাবের অজুহাত নয়, রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে বলুক এই শিক্ষানীতি অবৈজ্ঞানিক, শিক্ষা স্বার্থ বিরোধী এবং সর্বাংশে জনবিরোধী, তাই একে চালু করা হবেনা। সেইসঙ্গে তারা নিরন্তর বরাদ্দ সঙ্কোচন বন্ধ করে রাজ্যের বিদ্যামান সরকারি নানা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করুক। তাহলে বোঝা যাবে রাজ্য সরকার শিক্ষার স্বার্থে এবং জনস্বার্থের পক্ষে। নিত্য নতুন কমিটি না বসিয়ে রাজ্য সরকার এ বিষয়ে তার নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *