আমাদের ভারত, ৮ জানুয়ারি: আইপ্যাকের দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযান নিয়ে মামলা দায়ের করতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ইডি। শুক্রবারে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সম্ভবনা রয়েছে। আইপ্যাক দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযানের পর বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে ইডি।
সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশির মধ্যেই নথি ছিনতাই করা হয়েছে। আই প্যাক দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অভিযান নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়ের করতে চলেছে ইডি। এই মামলার জন্য হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থার দপ্তরে বৃহস্পতিবার হানা দেয় ইডি। তল্লাশি চলে আইপ্যাক এর কর্ণধার প্রতীক জৈন- এর বাড়িতে। ইডির তল্লাশির মধ্যে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সেখান থেকে বেরিয়ে সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তরেও যান। হাতে ফাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে তাকে বের হতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি অভিযোগ করেন, তার দলের রাজনৈতিক কৌশল ছিনতাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযানের জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইডির অভিযান অগণতান্ত্রিক এবং অন্যায়।
মমতার এই অভিযোগের মাঝে ইডির একটি বক্তব্য কেন্দ্রীয় সংস্থার বিভিন্ন সূত্র মারফত সংবাদ মাধ্যমে পৌঁছোয়। সেখানে বলা হয়, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তল্লাশি চলছে। কিন্তু সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে দুটি জায়গা থেকে নথি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপরই হাইকোর্টে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
দিদির আধিকারিকরা যখন আইপ্যাকের দপ্তর এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবেশ করেন এবং ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে রাখেন। এক্ষেত্রে ইডি আধিকারিকরা কি তাকে বাধা দিয়েছিলেন? তারা কি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেছিলেন? সে প্রশ্নও উঠেছে। কারণ ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।
ইডি যে বিবৃতি জারি করেছে তাতে বলা হয়েছে, ইডির সদর দপ্তর ইউনিট, আর্থিক তচরুপ প্রতিরোধ আইনে, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার দশটি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অনুপ মাঝি কয়লা পাচার ও সিন্ডিকেট চালাতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়লা চুরি করে বাইরে পাঠাতো। সেই মামলায় শান্তিপূর্ণভাবেই তল্লাশি অভিযান চলছিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রশাসনের আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের নিয়ে সেখানে চলে আসেন এবং জোর করে নথি ডিজিটাল তথ্য প্রমাণ নিয়ে চলে যান।
ইডি আরো জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি অভিযান তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক এবং কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিশানা করা হয়নি। কোনো পার্টি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়নি। তল্লাশির সঙ্গে কোনো নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। সাধারণ আর্থিক তচরুপ মামলায় এই অভিযান ছিল। আইন মেনে তল্লাশি চলেছে।

