পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ জানুয়ারি: সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী স্কুলের প্রধান শিক্ষক- শিক্ষিকাদের উপর স্কুলছুট পড়ুয়াদের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া-সহ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড আটকানোর ফরমান জারি
হয়েছে। সেই নির্দেশনামাকে অবিলম্বে বাতিল করার দাবিতে মেদিনীপুর শহরে শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ-এর বিক্ষোভ মিছিল, পর্ষদের মেদিনীপুর আঞ্চলিক দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ সভা ও ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের জেলা সম্পাদক জগন্নাথ খান বলেন, সম্প্রতি এক নির্দেশিকা পাঠিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, তাতে নবম শ্রেণিতে যত জন পড়ুয়ার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তারা সবাই দশম শ্রেণিতে পড়ার পর, তারা যে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে তার দায়িত্ব স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্বীকার করে স্বাক্ষরিত ফর্ম পর্ষদে জমা দিতে হবে। তা না হলে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট সেই স্কুলগুলিকে দেওয়া হবে না। এছাড়া
আর্থ সামাজিক কারণে বহু পড়ুয়া বিশেষ করে ছেলেরা ঘরবাড়ি, গ্রাম ছেড়ে অনত্র চলে যাওয়ার ঘটনায় কোভিড পরবর্তী সময় থেকে স্কুলছুট বেড়েই চলেছে গ্রামেগঞ্জে। এমন স্কুলছুটদের দায়িত্ব স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা সহ ক্লাস শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া এবং তারপর চাকুরি সংক্রান্ত কাগজ পত্রে জটিলতা তৈরী করার ফন্দি ও জব্দ করার যে চক্রান্ত হচ্ছে তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি হয়।
তিনি আরও বলেন, এই সরকার এতটাই অমানবিক ও দেউলিয়া যে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের রেজিষ্ট্রেশন ফি ৮ গুণ বাড়িয়ে ১০০০ টাকা নির্ধারণ করেছে ২০২৪
শিক্ষাবর্ষ থেকে। প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়াদের নবম শ্রেণি থেকেই স্কুল ছাড়ানোর জন্য এমন ফি বৃদ্ধি বলে অভিযোগ তুলে এই ফি কমানোর দাবি জানানো হয় মেদিনীপুর শহরে আঞ্চলিক পর্ষদ দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্য মাধ্যমিক পর্ষদ আধিকারীককে। দাবি তোলা হয়, মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে পূর্বের মত স্বশাসিত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা করা হোক। সরকার মনোনিত লোক বসিয়ে এমন অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী পদক্ষেপের তুমুল প্রতিবাদ জানানো হয়।

এদিনের ডেপুটেশন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন এবিটিএ’র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখার সম্পাদক জগন্নাথ খান, সভাপতি মৃণাল কান্তি নন্দ, সদর মহকুমা সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, সভাপতি সুরেশ পড়িয়া, খড়্গপুর মহকুমা সম্পাদক প্রভাস রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রমুখ।

