অশোক সেনগুপ্ত, কলকাতা, আমাদের ভারত, ১৩ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষকদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘কালাদিবস’ পালন করছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (এ বি আর এস এম)।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, রাজনীতি, তোষণের পাশাপাশি শিক্ষকদের সুরক্ষা একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ, পশ্চিমবঙ্গ (বিদ্যালয় শিক্ষা)-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী প্রামাণিক বুধবার জানান, দিনের পর দিন এই রাজ্যে বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিগৃহীত হচ্ছেন।
কারন হিসেবে দেখা যাচ্ছে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় সামান্য শাসন করলে, বকাঝকা দিলে, পরীক্ষার সময় নকল করতে বাধা দিলে, পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ বা ফেল করলে এমনকী ধর্মীয় পোশাকের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পোশাক পরে আসতে বললে শিক্ষক -শিক্ষিকাদের গালাগালি, মারধর, ক্ষমা চাওয়ানো, বিদ্যালয়ের তালা বন্ধ করে দিয়ে নানান অপমানসূচক কথা বলা প্রায়ই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ঘটনাগুলি ক্রমান্বয়ে ঘটে চলছে গোটা জুড়ে। এর ফলে শিক্ষক সমাজ আজ আতঙ্কিত।
এই ঘটনার পরম্পরায় ১১ সেপ্টেম্বর হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানার অধীন নাওদা নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ইংরেজির শিক্ষক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে দশম শ্রেণির ছাত্রের অভিভাবকরা স্টাফরুমে ঢুকে বেধড়ক মারধর করে। এর প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে দুজন অভিভাবককে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং স্থানীয় উলবেড়িয়া মহকুমা আদালন ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।“
এই বিষয় নিয়ে ভারতবর্ষের সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের (বিদ্যালয় শিক্ষা) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ইউনিটের পক্ষ থেকে সারা রাজ্য জুড়ে বুধ এবং বৃহস্পতিবার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীকে কালো ব্যাজ পরে কর্মরত থেকে ‘কালা দিবস’ পালনের জন্য আহ্বান জানায়। এরপরও যদি দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পায় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের নামবে বলে জানিয়েছেন।

