দুর্গাপুরপুরে বাস থেকে উদ্ধার প্রায় ৭০০ টিয়াপাখি, ধৃত ৪

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ আগষ্ট: আবারও পাচারের আগে যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রচুর টিয়া পাখি উদ্ধার। ঘটনায় বাসের চালক, খালাসি সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে বাসটিকে। বৃহঃস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে। 

 ঘটনায় জানা গেছে, বিহার থেকে কলকাতা গামী একটি বাসে টিয়া পাখি পাচার হচ্ছিল। আসানসোল ডুবুরডিহি চেক পোষ্ট থেকে গোপন সুত্রে খবর পায় বনদফতর। সেই মতো বাসটিকে ধাওয়া করে বনদফতর ও ওয়ার্ল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো। দুর্গাপুর সিটি সেন্টর বাসস্ট্যান্ডে বাসটিকে ঘিরে ধরে বনদফতর ও ওয়ার্ল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর প্রতিনিধিরা।

বাসে তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে খাঁচা ভর্তি টিয়া পাখির ছানা। এছাড়াও উদ্ধার হয় পাখি সহ  বেশ কিছু খাঁচা। ঘটনায় দুর্গাপুর বন দফতর বাসটিকে আটক করে নিয়ে যায়। দুর্গাপুর আঞ্চলিক বনাধিকারিক নিলরতন পান্ডা বলেন,” প্রায় ৭০০ মত টিয়া পাখির ছানা উদ্ধার হয়েছে। পাখিগুলি বেনারস থেকে নিয়ে আসছিল। দুজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাসের চালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে জাতীয় সড়কের বাঁশকোপা টোল প্লাজা এলাকায় পাচারের আগে প্রায় ৫০০ টিয়া পাখির ছানা উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনায় আটক করা হয় বাসটিকে। এছাড়াও ধরা পড়েছিল পাচারকারী। প্রসঙ্গত, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী বন্য প্রাণী এভাবে বাসে বহন অপরাধ যোগ্য। এছাড়াও এভাবে পাচার করাও অপরাধ যোগ্য। তাতে ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী ৭ বছর জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। আবার দুটোই হতে পারে।

এখন প্রশ্ন, টিয়া পাখির ছানা কোথায় পাচার হয়? জানা গেছে, পাচারকারীরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড থেকে টিয়াপাখির ছানা সংগ্রহ করে। তারপর ননস্টপ কলকাতাগামী বাসে এরাজ্যে নিয়ে আসে। কলকাতার মত শহরে মোটা টাকা মুনাফার আশায় বিক্রি করে। দুর্গাপুর আঞ্চলিক বনাধিকারিক নিলরতন পান্ডা বলেন, “নিয়মিত নজরদারি চলে। খবর পেলেই অভিযান হয়। ধৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাখির ছানা জঙ্গলে ছাড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *