“ঘন্টা না বাজলেও কুকুরের মুখ থেকে লালা পড়ে,” অভিষেকের সংযোগ যাত্রায় ব্যালট লুটকে প্রতিবর্ত তত্ত্ব বলে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২ মে : দলীয় ভোট হোক বা পঞ্চায়েত ভোট কোনো বাছ বিচার না করেই ব্যলট লুট করে তৃণমূলের কর্মীরা। এই ঘটনাকে বিজ্ঞানের প্রতিবর্ত তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসংযোগ যাত্রার কড়া সমালোচনা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

নবজোয়ার যাত্রার শুরু থেকেই প্রার্থী বাছাই করাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। কোচবিহার এই বিশৃঙ্খলায় পিছু নিয়েছে। যাত্রার শুরুতেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রার্থী বাছার জন্য ভোট প্রক্রিয়া চালুর কথা ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে কর্মী সমর্থকদের সুবিধা করে দিতে গিয়ে প্রায় চুড়ান্ত অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে।

এদিকে এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বিজেপির দাবি, তৃণমূলের কর্মীরাই ব্যালট লুট করছেন। এক্ষেত্রে ব্যালট লুটের ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, জীবন বিজ্ঞানের প্রতিবর্ত তত্ত্বের কারণে এই ব্যালট লুট হচ্ছে।

২৫ এপ্রিল তৃণমূলের নবজোয়ার যাত্রা শুরু করেন অভিষেক। সেই দিনই কোচবিহারের গোসানিমারি ও সাহেবগঞ্জে ব্যালট নিয়ে ধুন্দুমার ঘটনা ঘটে। জলপাইগুড়িতেও একই ছবি দেখা যায়। উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘিতে ভোটাভুটিতে গোলমাল হয়। তুমুল হাতাহাতি হয় নেতাকর্মীদের মাঝে। হাতিয়াগাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথে মারপিট থামাতে নামাতে হয়েছিল র্যাফ। মঙ্গলবার হরিরামপুরেও একই ঘটনা ঘটে।

২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিজেপি কর্মীরা শাসকের হাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই অভিযোগ নিয়েই মঙ্গলবার ধর্মতলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। সেখানে দলের সাংসদ বিধায়করা হাজির ছিলে। সবার শেষে সকলে মিলে বাবুঘাটে দলের মৃত কর্মীদের শহিদদের আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন। বিরোধী দলনেতা নো ভোট টু মমতার স্লোগান দেন। সুকান্ত আক্রমণ শানান অভিষেকের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, জীবন বিজ্ঞানের প্রতিবর্ত ক্রিয়া পড়ানো হয়। সেই নির্দিষ্ট সময় ঘন্টা বাজিয়ে কোনো কুকুরকে দিনের পর দিন খেতে দেওয়ার পর ঘন্টা না বাজালে ওই সময় কুকুরের মুখ থেকে লালা পড়তে থাকে। তৃণমূল কর্মীদের একই অবস্থা ব্যালট বাক্স দেখলেই লুট করতে ইচ্ছে করে। দলীয় ভোট, নাকি পঞ্চায়েত ভোট, বাছ বিচার করার সুযোগ থাকে না।

এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার কি করে পাবেন তারও পরামর্শ দেন সুকান্ত কটাক্ষের সুরে। তিনি বলেন, অভিষেক বাবুকে বলবো দুজন শন্ডা চেহারার দলীয় কর্মীকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মতো পোশাক পরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখুন। দেখবেন আর ব্যালট বাক্স লুট হবে না। তৃণমূল কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই শুধু ভয় পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *