Abhishek, Keshiari, কেশিয়াড়ির জনসভা থেকে উন্নয়নের বার্তা অভিষেকের, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ মার্চ: প্রখর গরম উপেক্ষা করে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির ঘোলাই হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুই বিধানসভা কেন্দ্র দাঁতন ও কেশিয়াড়িতে দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দাঁতন থেকে মাণিক মাইতি এবং কেশিয়াড়ি থেকে রামজীবন মান্ডিকে আগেরবারের থেকেও বেশি ব্যবধানে জয়ী করলে এই অঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেবেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এলাকায় বহু উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দাঁতনের সাবরা, ভেটিয়া ও শিজুয়ায় কোটি কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণের উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি মোহনপুর ব্লকে দীর্ঘদিনের থানা নির্মাণের দাবিও সরকার গঠনের পর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে বলে জানান।

কেশিয়াড়ির উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, সুবর্ণরেখা নদীর ওপর প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘জঙ্গলকন্যা সেতু’ নির্মাণ (ব্যয় প্রায় ১৭০ কোটি টাকা) এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এছাড়াও ডিগ্রি কলেজ, আইটিআই, পলিটেকনিক, কিষান মান্ডি, হাসপাতাল উন্নয়ন, আদিবাসী মিউজিয়াম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ এবং বাঁধ প্রকল্পের কাজ চলার বিষয়েও আলোকপাত করেন।

স্থানীয় চাহিদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেশিয়াড়িতে বাসস্ট্যান্ড, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অলচিকি ভাষায় স্কুল স্থাপনের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এছাড়াও মোহনপুর ও দাঁতনে পান চাষিদের জন্য সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “১২ বছর আগে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মানুষ তা পাননি। প্রতি বছর ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।” গ্রামীণ সড়ক যোজনা ও আবাস প্রকল্পের অর্থ বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র বঞ্চনার রাজনীতি করছে।

এদিন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী, বাংলা আবাস, কৃষকবন্ধু ও যুবসাথী প্রকল্পে দাঁতন ও কেশিয়াড়ির লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। রাস্তাশ্রী ও পথশ্রী প্রকল্পে দুই কেন্দ্রেই বিপুল সংখ্যক রাস্তা নির্মাণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতির বিরোধিতা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের রাজনীতি শিক্ষা, জীবিকা, বাসস্থান ও উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে, ধর্ম বা জাত নয়।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা ধর্মকে হাতিয়ার করে বিভাজনের রাজনীতি করছে।

সভা থেকে বিজেপির উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট জায়গা ও সময় ঠিক করে রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে বিতর্কে বসতে তিনি প্রস্তুত। “সংখ্যার ভিত্তিতে হারাতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব,” বলেন তিনি।

শেষে তিনি দাঁতনের মণিক মাইতি ও কেশিয়াড়ির রামজীবন মান্ডিকে জয়ী করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের অধিকার খর্ব হতে পারে—এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দলের কর্মীদের নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *