সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১১ জুন: অভিষেকের আসার খবরে সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ গোটা ঠাকুরনগর। মতুয়া ভক্তদের মূল নাট মন্দিরে ভিড় রাজ্য পুলিশের। তা দেখে মেজাজ হারালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ এবং সর্বোপরি ঠাকুর বাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, “অভিষেক কে? কোন মন্ত্রী ও? বাংলার মন্ত্রী না কেন্দ্রের? এত সাজগোজ হচ্ছে, মন্ত্রী এলেও হয় না, প্রধানমন্ত্রী যখন এসেছিলেন, তখনও হয়নি। ও কে? সাধারণ সাংসদ। ওর লোকসভায় এসব হোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে, সাংসদ হিসেবে অভিষেক কে? সূর্যের আলোয় চাঁদ যেমন আলোকিত হয়, ও তাই হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে ও যেমন সাংসদ, আমিও সাংসদ। ভোটের আগে ঠাকুরবাড়িতে এই মুহূর্তে কী আছে?”
মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব মতুয়া ভক্তরা। বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ অভিষেক মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতেই জোর করে ঠাকুরনগরের মন্দিরের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভেঙ্গে ফেলা হয় অভিষেকের কর্মসূচি উপলক্ষ্যে তৈরি হওয়া তোরণ। ভিতরে তখন বিজেপি সাংসদ তথা জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। বাইরে তুমুল বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মীদের। মতুয়া ভক্তদের সঙ্গে তৃণমূলের মহিলা
কর্মীদের মধ্যে চলে ধস্তাধস্তি। সব মিলিয়ে অভিষেক আসার আগেই উত্তপ্ত ঠাকুরবাড়ি চত্বর। শেষমেশ নাটমন্দিরে ঢুকতে না পেরে পাশে বড়মায়ের মন্দির ছুঁলেন অভিষেক। পরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘মতুয়া মন্দির কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আগামী দিনে মানুষ এর জবাব দেবে।’
আগেই মুখ্যমন্ত্রীর নামে পোস্টার দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। বিষয়টি নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর চাঁচাছোলা জবাব দেন। তিনি বলেন ‘ওঁর পিসি ঠাকুরের নামে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করবে, তা ওঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি?’
গত ফেব্রুয়ারিতে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃত করার অভিযোগে পথে নেমেছিলেন মতুয়ারা। মুখ্যমন্ত্রীর ভুল উচ্চারণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। নাটমন্দিরে পুলিশ কেন ঢুকেছে, প্রথমেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। তারপর কার্যত পুলিশকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। অভিষেক চলে গেলে গোবরজল দিয়ে ঠাকুরবাড়ি শোধন হবে বলেও জানান। তবে সেখানেই থামেননি শান্তনু। বাইরে সংবাদমাধ্যমেও ক্ষোভ উগরে দেন। অভিষেককে নিশানা করে বলেন, “অভিষেক কে? কোন মন্ত্রী ও? বাংলার মন্ত্রী না কেন্দ্রের? এত সাজগোজ হচ্ছে, মন্ত্রী এলেও হয় না, প্রধানমন্ত্রী যখন এসেছিলেন, তখনও হয়নি। ও কে? সাধারণ সাংসদ। ওঁর লোকসভায় এসব হোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে, সাংসদ হিসেবে অভিষেক কে? সূর্যের আলোয় চাঁদ যেমন আলোকিত হয়, ও তাই হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে ও যেমন সাংসদ, আমিও সাংসদ। ভোটের আগে ঠাকুরবাড়িতে এই মুহূর্তে কী আছে?” শুধু তাই নয়, অভিষেক ঘুরে চলে গেলে, গোবর-জল দিয়ে ঠাকুরবাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকা শোধন করা হবে বলেও জানিয়েছেন শান্তনু।
পরে ঠাকুরনগরে পৌঁছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মতুয়া মন্দির কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। সকাল থেকে বিজেপির লোকেরা মন্দির ঘিরে রেখেছে। আগামী দিনে মানুষ এর জবাব দেবে। আমি ৩ মাস অন্তর ঠাকুরবাড়িতে আসব, দম থাকলে আটকে দেখাক।’ উত্তপ্ত মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্তনু ঠাকুরের উদ্দেশে তিনি বলেন, শান্তনু ঠাকুর যে বাড়িতে থাকেন, সেখানকার জলের ব্যবস্থা মমতা করেছেন। যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে তৃণমূলকে চমকাচ্ছেন সেই রাস্তাও মমতার করে দেওয়া।

