Abhishek, TMC, Bankura, বাঁকুড়ায় ১২-০ করার ডাক দিলেন অভিষেক

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১০ জানুয়ারি: নির্বাচন দোর গড়ায়। দিনক্ষণ ঘোষিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা বেড়ে চলেছে। সভার মাধ্যমে জনগণের সামনে আসছেন দলীয় নেতৃত্ব। আজ শালতোড়ায় সভা করে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় শালতোড়ার সভামঞ্চ থেকে বাঁকুড়ায় বিরোধী শূন্য করার ডাক দিলেন।

আজ শালতোড়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রত্যাশা মতোই স্থানীয় পাথর খাদান শ্রমিকদের বিষয়ে সরব হয়ে ওঠেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ ও এসআইআর নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার এরাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। তিনি একথা মিথ্যা বললে মামলা করে তাকে জেলে ঢোকাক। বিজেপির কত দাম আছে তিনি দেখে নেবেন। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি করা মানেই খাল কেটে কুমির আনা। এই ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার উন্নয়নের কাজ করে চলেছে। জঙ্গলমহল এলাকা মাওবাদী শূন্য করা হয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে।লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে। গত ৫ বছরে জেলায় বিপুল উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, বিজেপি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বোঝে না। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় ১২-০ করতে হবে। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারকে প্রাক্তন করেছেন। তার মানে ৬টা বিধানসভা কেন্দ্র দখলে এনেছেন। বাকি ৬টা আনতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়া বিধানসভা তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফের এগিয়ে যায় তৃণমূল। জেলা রাজনীতি ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা দলের এই ফিরে আসাকে আরো ত্বরান্বিত করে তুলতে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় তার রণ সংকল্প সভা করলেন শালতোড়ায়। “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা” শিরোনাম নিয়ে এসভা করেন তিনি। এই শ্লোগানের মধ্য দিয়ে অভিষেকবাবু দলীয় কর্মীদের আবার শালতোড়া জেতার বার্তা দেন। অন্য সভাগুলির মত শালতোড়াতেও তিনি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থেকে এসআইআর নিয়ে সরব হন।

বাঁকুড়ার খাদান শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটা খাদানের জন্য কমপক্ষে ১ হেক্টর জমি লাগে। নানা অনুমোদন লাগে। এই অনুমোদনের জন্য মাসের পর মাস সময় লাগে।বৈধ ও আইন মেনে চালাতে গেলে এককালীন ৩০-৩২ লক্ষ টাকা লাগে। তার ওপর রাঁচিতে অবস্থিত ডিজি মাইনসকে প্রচুর ঘুষ দিতে হয়। তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের লজ্জা লাগে না। কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসকে ঘুস দিতে হচ্ছে অনুমোদন পেতে।

অভিষেকবাবু বলেন, বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। আপনি ভোট দেবেন, বলা হচ্ছে সার্টিফিকেট দরকার। এবার জল খেলেও সার্টিফিকেট চাইবে।বিজেপিকে জেতালে এটাই হবে। এদিন শালতোড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় তৃণমূলে যোগ দিলেন সেখানকার ২ বিজেপি নেতা। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আগামী বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়াকে ১২-০ করার ডাক দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *